ক্রিকেটারদের ধর্মঘট: ভারত সফরের ক্যাম্পে আসেনি কোনো ক্রিকেটার

২৩ অক্টোবর ২০১৯


ক্রিকেটারদের ধর্মঘট: ভারত সফরের ক্যাম্পে আসেনি কোনো ক্রিকেটার


আগামী মাসে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফর উপলক্ষে আজ বুধবার যে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হবার কথা, তাতে স্কোয়াডভূক্ত কোনো ক্রিকেটারই দুপুর নাগাদ এসে যোগ দেননি। বিকেল নাগাদ এই ক্যাম্পে এসে হাজিরা দেবার শেষ সময়সীমা রয়েছে, কিন্তু এই সময়সীমার মধ্যে ধর্মঘটরত কোন ক্রিকেটার এসে যোগ দেবেন এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, একাডেমি মাঠ কিংবা জিমনেশিয়ামের ত্রিসীমানার মধ্যেই এদের কাউকে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি বলে।

অথচ বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মঙ্গলবার বিকেলেই এক সংবাদ সম্মেলন করে ভারত সফরের আগ মুহূর্তের এই ধর্মঘটকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বলেছিলেন, "আমি দেখতে চাই ইন্ডিয়া ট্যুরের আগে যে ক্যাম্প হবে তাতে কারা না আসে? কারা ইন্ডিয়া ট্যুর বানচাল করতে চায়"?

সকালে ট্রেনার মারিও ভিলাভারানে উপস্থিত ছিলেন, সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম। ২৪শে অক্টোবর অর্থাৎ কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হবার কথা ছিল জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ড।

কিন্তু কোনো ভেন্যুতে দল যায়নি। ভারত সফরকে সামনে রেখে এই ক্যাম্পের বাড়তি গুরুত্ব ছিলো। আর বেশিরভাগ ক্রিকেটার ম্যাচের মধ্যে ছিল তাই ফিটনেস নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করার সুযোগ হয়নি। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ভারতের মাটিতে পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, ২০১৭ সালে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এই সিরিজে ৩ টি টি-টোয়েন্টি ও ২ টি টেস্ট ম্যাচ হবার কথা ভারতের বিভিন্ন ভেন্যুতে। কোলকাতায় বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাবেন বলেও কথা রয়েছে।

ক্রিকেটারদের আলোচনার আহ্বান:

ক্রিকেটারদের বিকেল পাঁচটায় আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর নির্বাহী পরিচালক নিজামুদ্দিন চৌধুরী। স্কোয়াডভূক্ত কোন ক্রিকেটারের সাথেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। যতদূর জানা যাচ্ছে তারা নিজেরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে একটি বৈঠক করছেন এখন। তবে কোথায় এই বৈঠক চলছে, কখন নাগাদ শেষ হবে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশিরভাগ সিনিয়র সদস্যসহ ত্রিশ জনেরও বেশি খেলোয়াড় একটি সংবাদ সম্মেলন করে এগারোটি দাবি তুলে ধরেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবালও উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন।

একইসাথে তারা ঘোষণা দেন, এই দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তারা কোন ম্যাচ কিংবা অনুশীলনে যোগ দেবেন না। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ওই সংবাদ সম্মেলনে না থাকলেও পরে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে ক্রিকেটারদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এমন সময় এই ধর্মঘটে গেলেন ক্রিকেটাররা, যখন আগামী মাসেই ভারতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। এই ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন করে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। -বিবিসি বাংলা