বন্ধ দরজার সামনে শিশুকে ফেলে গেলো মা

১৮ অক্টোবর ২০১৯


বন্ধ দরজার সামনে শিশুকে ফেলে গেলো মা

পঞ্চগড়ে বৃহস্পতিবার রাতে এক বাড়ির দরোজার সামনে পরে থাকা এক মাসের একটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা যায়, শিশুটির মা-ই তাকে এভাবে ফেলে রেখে যান। উদ্ধারের পর বাচ্চাটিকে পঞ্চগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে শিশু কুড়িয়ে পাবার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে তাকে দত্তক নিতে হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন বহু আগ্রহীরা।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে শহরের কামাত পাড়া এলাকার একটি বাড়ির মূল ফটকের সামনে শিশুটিকে ফেলে রাখা হয়েছিলো। কান্নার শব্দ শুনে দরজা খুলে বাড়ির মালিক তানিয়া মদক মাটিতে পড়ে থাকা শিশুটিকে দেখতে পান। ঘড়িতে তখন রাত ৮টা। অচেনা অজানা শিশুটিকে দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকজন মহিলা ছুটে আসেন। তারা ফুটফুটে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। পরে তানিয়া মদকের স্বামী অশোক চন্দন মদক পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

বৃহস্পতিবার রাতেই শিশুটির মা তাকে ওই বাড়ির মূল ফটকের সামনে মাটিতে ফেলে রেখে চলে যায় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। শিশুটির বয়স মাত্র এক মাস। শিশুটিকে উদ্ধার করার খবর শোনার পর তাকে দত্তক নেয়ার জন্য হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন আগ্রহীরা। শিশুটিকে এক নজর দেখতেও দূর দূরান্ত থেকে অনেক লোকজন ছুটে আসছেন। অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ জানায়, এই শিশুটির মায়ের নাম রিমু আকতার নামে এক নারী। তার স্বামীর বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এলাকায়। ওই নারীর বাবার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এবং নানার বাড়ি পঞ্চগড় জেলা শহরের কামাত পাড়া এলাকায়। তিনি এই এলাকতেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। হঠাৎ একদিন তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। এক দেড় বছর পর কোলে বাচ্চাটিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের কামাত পাড়া এলাকায় আসেন। এরপর ওই এলাকার পেয়ারা মজুমদার নামে এক গহবধূকে সন্তানটিকে রাখতে বলেন।

পেয়ারা মজুমদার জানান, রিমু তার ওই শিশু সন্তানকে আমাকে দিয়ে দিতে চায়। কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি। এরপরই ওই মা শিশুটিকে তানিয়া মদকের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সিরাজদৌল্লা পলিন জানান, শিশুটি সুস্থ আছে। শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে নিবির পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী শিশুটিকে দেখতে আসেন। জেলা প্রশাসক শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন। 

জেলা প্রশাসক জানান, শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন অনেকেই ইচ্ছা প্রকাশ করছেন । কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দত্তক নিতে হবে। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে শিশুটির সকল প্রকার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।