‘যথেষ্ট হয়েছে, সভ্যভাবে সরে যান’

১৩ অক্টোবর ২০১৯


‘যথেষ্ট হয়েছে, সভ্যভাবে সরে যান’

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারকে বন্দুক আর পুলিশ দিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, যে সরকারি দল আছে, শাসন করছে, এই দলে তো আমরা সবাই ছিলাম। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে। কিন্তু সেই দলের নাম নিয়ে যা হচ্ছে তাতে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হচ্ছে। বুয়েটের আবরার হত্যার প্রতিবাদে রবিবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক সভা ও শোকর‌্যালির অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, ১৬ কোটি মানুষের কণ্ঠকে স্তব্ধ কেউ করতে পারে নাই, আপনিও পারবেন না। সময় থাকতে মাথা ঠাণ্ড করে কুশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেন। যথেষ্ট হয়েছে। আর কত? সভ্যভাবে সরে যান।

ড. কামাল বলেন, আবরারের সঙ্গে যেটা করা হয়েছে, সেটা সংবিধানের ওপর আঘাত করা, সংবিধানকে অমান্য করা, সংবিধানকে ধ্বংস করা- এটা অপরাধ। এই অপরাধ এরা (সরকার) রীতিমতো করে যাচ্ছে। মনে করবেন না, কিছু পুলিশ, কিছু বন্দুক দিয়ে এই দেশের মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা তো দেখেছি ২৯ তারিখ রাতের পর ৩০ তারিখ সকালে এসে ‘‘আমি হয়ে গেছে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য আমি হয়ে গেছি, আপনাদেরকে ধন্যবাদ দেই। আমি স্বাক্ষ্য দেবে, তৃতীয়বার আপনাকে কেউ নির্বাচিত করে নাই, যোগ করেন ড. কামাল।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিন বার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। উনি মুক্তি পাবেন না, চিকিৎসা পাবেন না- এটা কল্পনা করা যায় না। আমি উনার মুক্তি দাবি করছি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এস এম আকরাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহুমুদ টুকু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ অন্যরা।