শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বুয়েট উপাচার্য

১১ অক্টোবর ২০১৯


শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বুয়েট উপাচার্য

আবরার হত্যকাণ্ডের ঘটনায় নিজের নিরব ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার কিছুটা ভুল হয়েছে। আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে উপাচার্য এ ক্ষমা চান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী আমার সন্তনের মত। তেমনি আবরার ছিল তার একজন। তার মৃত্যু তোমাদের যেমন কষ্ট দিয়েছে, আমাকেও তেমনভাবে কষ্ট দিচ্ছে। এ ঘটনা তোমাদের যেমন খারাপ লাগছে আমারও লাগছে। এটি আমি মেনে নিতে পারিনি।

উপাচার্য বলেন, হত্যাকাণ্ড পরবর্তী সময়ে আমার কিছু ভুল হয়েছে। আমি তোমাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার ভুল আমি স্বীকার করেছি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দাও। এর আগে বৈঠকে ভিসি নিজের ভুল স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবধরণের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও ১৯ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন। 

বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে উপাচার্য মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। বৈঠকে উপাচার্য ছাড়াও ডিএসডব্লিউ পরিচালকসহ সাতজন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছিলেন, বৈঠকে ১০ দফা দাবি ও আবরার হত্যার ঘটনায় উঠে আসা ইস্যুগুলো নিয়ে ভিসির কাছে জবাব চাওয়া হবে।

আলোচনায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে সারিবদ্ধভাবে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। অডিটোরিয়ামে প্রবেশের জন্য সাংবাদিকদের প্রেস কার্ড দেন শিক্ষার্থীরা। প্রসঙ্গত, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খুনিরা আবরারকে সিঁডিতে ফেলে রাখে।

পরের দিন হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।


আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছেন। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।