কুষ্টিয়াবাসীর তোপের মুখে দ্রুত এলাকা ছাড়লেন বুয়েট উপাচার্য

৯ অক্টোবর ২০১৯


কুষ্টিয়াবাসীর তোপের মুখে দ্রুত এলাকা ছাড়লেন বুয়েট উপাচার্য

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুষ্টিয়া গিয়ে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম তোপের মুখে পড়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি আবরারের গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছান। এরপরই এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন।  এ সময় আবরার ফাহাদের ভাই ফায়েজকে পুলিশ হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা। আবরারের মৃত্যু, তার জানাজায় বুয়েট উপাচার্যের উপস্থিত না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ জানান এলাকাবাসী। পরে কবর জিয়ারত করে পরিবারের সঙ্গে দেখা না করেই ৫টার কিছু পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।  

এর আগে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান বুয়েট উপাচার্য।  রায়ডাঙ্গা গ্রামে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়।  আবরারের বাড়ির পাশে ও কবরের আশেপাশের এলাকায় অসংখ্য র‌্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে কারো মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উপাচার্যের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এলাকা ত্যাগ করেন। পরে এলাকাবাসী গ্রামের সড়কে অবস্থান নেন।

রোববার রাত আটটায় বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা হলের প্রাধ্যক্ষ জানেন রাত পৌনে তিনটায়। কিন্তু এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে উপাচার্য সেখানে যাননি পরপর প্রায় দুই দিন।

এমনকি শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাদের সামনে আসেননি উপাচার্য। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার দিনভর আন্দোলন করার পর তাদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে এলে তিনি তোপের মুখে পড়েন।