বুয়েটের সেই ছাত্রের শেষ স্ট্যাটাস

৭ অক্টোবর ২০১৯


বুয়েটের সেই ছাত্রের শেষ স্ট্যাটাস

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই বাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদ (২১) নামে এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে হলের নিচতলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি সহপাঠিদের। তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন আবরার ফাহাদ। সেই স্ট্যাটাসে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেছিলেন এই ছাত্র। পাঠকদের জন্য ফেসবুকে দেওয়া আবরারের শেষ স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েক বছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩. কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-

‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মন সকলি দাও

তার মতো সুখ কোথাও কি আছে

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’

উল্লেখ্য, গতকাল রাত আটটার দিকে শের-ই বাংলা হলের এক হাজার ১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন আবরারকে ডেকে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে সহপাঠিরা। এরপর রাত দুইটা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, ২ হাজার ১১ নম্বর রুমে নিয়ে তাকে পিটানো হয়। পরে শের-ই বাংলা হলের একতলা ও দুই তলার মাঝখানের সিঁড়িতে আবরারকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা ফাহাদকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি তিনি। এদিকে এ বিষয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।