রংপুর-৩ উপনির্বাচন : বেসরকারিভাবে বিজয়ী সাদ এরশাদ

৫ অক্টোবর ২০১৯


রংপুর-৩ উপনির্বাচন : বেসরকারিভাবে বিজয়ী সাদ এরশাদ

রংপুর-৩  আসনের উপনির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৫৮ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয় লাভ করেছেন মহাজোটের প্রার্থী রাহগীর আল মাহী ওরফে সাদ এরশাদ। ধানের শীষ প্রতীকে ১৬ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপির রিটা রহমান। মোটরগাড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মকবুল শাহরিয়ার ওরফে আসিফ (আসিফ শাহরিয়ার) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৮৪ ভোট, তার অবস্থান তৃতীয়। শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এই তথ্য জানিয়েছেন রির্টানিং কর্মকর্তা জি এম শাহাতাব উদ্দিন। তিনি জানান,  রংপুর-৩ আসনের ১৭৫টি কেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৯৪ হাজার ৬ জন। ভোট কাস্টিয়ের অনুপাত ২২.৮৬ শতাংশ।  তিসি আরো জানান, নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৮ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়। গতকাল দুপুর থেকে বিজিবির সদস্যদের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয়। বিজিবি সদস্যরা টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রাখেন।

রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে গত সংসদ নির্বাচনের মত এবারও ১৭৫টি কেন্দ্রে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ১০২৩ এবং ২০৪৬ জন পোলিং অফিসারকে প্রশিণ দেওয়া হয়েছে। ১০২৩টি গোপন কে ভোটগ্রহণ করা হবে। রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ এবং ২ লাখ ২০ হাজার ৭৬২ নারী ভোটার।

সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩ সদর আসনে প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন। এরপর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের কাজী আব্দুল কাদের, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শফিকুল গাণি স্বপন, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পাটির মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টিও চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০১ সালে জিএম কাদের, ২০০৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে রওশন এরশাদ, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এ আসনের। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।  সেই ভোটে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর ধানের শীষের প্রার্থী রিটা রহমান পান ৫৩ হাজারের ওপরে। গত ১৬ জুলাই রংপুরে সমাধিস্থ করা হয় এরশাদকে।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান ধানের শীষ, গণফ্রন্টের প্রার্থী কাজী মো. শহিদুল্লাহ প্রতিক মাছ, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল দলীয় প্রতিক দেয়াল ঘড়ি, এনএনপি শফিউল আলম দলীয় আম প্রতিক  এবং এইচ এম এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থ হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফের  মোটরগাড়ি (কার) প্রতিক  লড়েন।