ক্রিকেটারদের সঙ্গে বান্ধবী থাকলে সমস্যা কী, প্রশ্ন সানিয়া মির্জার

৪ অক্টোবর ২০১৯


ক্রিকেটারদের সঙ্গে বান্ধবী থাকলে সমস্যা কী, প্রশ্ন সানিয়া মির্জার

গর্জে উঠলেন সানিয়া মির্জা!

ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী ও বান্ধবীদের কোনও ট্যুরে না যেতে দেওয়ার নিয়মকে এক হাত নিলেন হায়দরাবাদি। তাঁর বক্তব্য, 'এই ধরনের মানসিকতা আরও গভীর এক ব্যাধি থেকে উঠে আসে। যেখানে মেয়েদের ধরা হয় চিত্তবিক্ষেপের কারণ হিসেবে, তাকে শক্তি হিসেবে ভাবা হয় না।'

বাংলায় যখন দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে, নারীশক্তির পুজোয় মেতে উঠেছে দেশের একটা বড় অংশ, তখন, রাজধানীতে টেনিস সুন্দরীর এই প্রতিবাদ বাড়তি তাৎপর্যপূর্ণ।

'ইন্ডিয়া ইকনমিক সামিট'-এ বক্তব্য রাখার সময় সানিয়া এই কথা বলেন। ঘটনাচক্রে যিনি আবার দক্ষিণ এশিয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের 'গুডউইল অ্যাম্বাসাডর'ও বটে।

সানিয়া বলেন, 'অনেক দিন ধরেই দেখছি, আমাদের দেশের ক্রিকেট টিম-সহ বিশ্বের অনেক টিমে কোনও ট্যুরে স্ত্রী ও বান্ধবীদের যেতে দেওয়া হয় না। কারণ, হিসেবে বলা হয়, এতে ক্রিকেটারদের মন চঞ্চল হয়ে যাবে।' তাঁর প্রশ্ন, 'এর অর্থ কী? মেয়েরা এমন কী করে, যাতে ছেলেদের চিত্তচাঞ্চল্য দেখা দেয়?'

সানিয়া বলছেন, 'টিম স্পোর্টের ক্ষেত্রে পরিবার বা স্ত্রী সঙ্গে থাকলে ছেলেদের পারফরম্যান্স ভালো হয়, এটা প্রমাণিত। তাঁর কথায়, 'স্ত্রী বা পরিবার সঙ্গে থাকলে ওদের শূন্য ঘরে ফিরতে হয় না। একসঙ্গে একটু ঘুরে আসতে পারে বা ডিনারে যেতে পারে। স্ত্রী বা বান্ধবী সঙ্গে থাকলে, তা কিন্তু মানসিকভাবে ছেলেদের সাহায্য করে। তারা ভালোবাসা পেতে পারে।'

এ বারের বিশ্বকাপে শোয়েব মালিকের সঙ্গে সানিয়ার একটি ছবি ভাইরাল হয়। পাকিস্তান টিমের নির্দেশ ছিল, স্ত্রীরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। ভারতের ক্ষেত্রেও এমন নির্দেশ ছিল, তবে, তা পাক ম্যাচ পর্যন্ত। তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, সানিয়ার বক্তব্য, 'আমি ওখানে ছিলাম না। আমার অত ক্ষমতা নেই।' তার পর তাঁর সংযোজন, 'বিরাট শূন্য করলে অনুষ্কা শর্মাকে দোষ দেওয়া হয়। যে কোনও কিছুর সঙ্গে যে কোনও বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়। এ সবের কোনও মানে নেই। আমরা যদি এ সবের প্রতিবাদ না করি, যদি জোর গলায় না বলি, যে আমরা শক্তি যোগাই, ওদের মন চঞ্চল হওয়ার কারণ আমরা নই, তা হলে হয়তো এক দিন এই বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে মেয়েরা জিতে যাবে।'

একই সঙ্গে হায়দরাবাদি বলছেন, 'আমি যখন খেলা শুরু করি, তখন আমার দেশের মেয়ে আইকন বলতে একমাত্র ছিলেন পিটি উষা। এখন পিভি সিন্ধু, সাইনা নেহওয়াল, দীপা কর্মকারের মতো অনেকে রয়েছে। মেয়েদের আরও বেশি খেলায় আসার জন্য এখন অনুপ্রাণিত করা উচিত।' সঙ্গে বলছেন, 'আমি যখন খেলাটাকে ধ্যানজ্ঞান করি, তখন সবাই ভেবেছিল খেললে আমি গায়ের রং কালো হয়ে যাবে এবং আমার কখনও বিয়ে হবে না। আমি তখন ভেবেছিলাম, ঠিক আছে, কিন্তু আমি খেলা ছাড়ব না। অনেক কিছুর বিরুদ্ধেই মেয়েদের লড়তে হয়। গ্র্যান্ড স্লামে যদি আমরা ছেলেদের সমান পুরস্কার মূল্য পাই, তা হলেও আমাদের বলতে হয়, কেন আমাদের ছেলেদের মতো একই অঙ্কের পুরস্কার মূল্য প্রয়োজন। সমাজের সর্বত্রই মেয়েদের প্রতি এই বৈষম্যটা রয়েছে।' - এই সময়