টেন্ডার বাগাতে সুন্দরী বিমানবালা মডেলদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করতেন জিকে শামীম

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯


টেন্ডার বাগাতে সুন্দরী বিমানবালা মডেলদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করতেন জিকে শামীম

ক্যাসিনো সাম্রাজ্যে গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। টেন্ডার বাগাতে ভিআইপিদের বিমানবালা  মডেল নায়িকা সরবরাহ করতেন তিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্তত ৫০ জন মডেল ও নায়িকার একটি তালিকা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রভাবশালীসহ প্রকৌশলীদের রাজকীয় মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করতেন তিনি। উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তার নিয়মিত আবদার ছিল, শুধু টাকা দিলেই হবে না, চাই উঠতি বয়সের নায়িকার সঙ্গ। কর্মকর্তাদের কাছে দীর্ঘ তালিকা পাঠাতেন শামীম। এমন একটি তালিকা তার কাছে পাওয়া গেছে।

বিমানের দুজন আর রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একজন কেবিন ক্রু শামীমের হয়ে সঙ্গ দেন প্রভাবশালীদের। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে যুবলীগ নেতা জি কে শামীম।

প্রতিদিনই সুন্দরী মডেল ও নায়িকাদের আনাগোনা লেগেই থাকত যুবলীগ নেতা শামীমের নিকেতন অফিসে। এদের মধ্যে উঠে আসেছে বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী রত্না, এ প্রজন্মের নায়িকা মিষ্টি জান্নাত, রাহা তানহা খান ও শিরিন শীলার নাম।

এ প্রসঙ্গে বিমানবালা ও মডেল নায়িকারা মুখ খুলেছেন। টেন্ডার মাফিয়া জি কে শামীমের সাথে তাদের কাজ ও পরিচয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই মোটা অংকের টাকা পাওয়ার পরও দাবি করতেন সুন্দরী ললনার সঙ্গ।

চলচ্চিত্রের কমবয়সী নতুন নায়িকা ও সুন্দরী মডেলদের তারা শয্যায় পেতে চাইতেন। ধুরন্ধর শামীম কৌশলে দামি গিফটের বিনিময়ে শোবিজ-সুন্দরীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে তাদেরই টেন্ডার বাগানোর অ্যাসাইনমেন্টে পাঠাতেন। অর্ধশতাধিক সুন্দরী শামীমের এন্টারটেইন মিশনে নিয়মিত অংশ নিতেন। এ তালিকায় পাওয়া গেছে সুন্দরী প্রতিযোগিতার খেতাব বিজয়ী মডেলসহ দু’একটি সিনেমায় অভিনয় করে ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোচনায় উঠে আসতে না পারা চার নায়িকা, ছোটপর্দার তারকা অভিনেত্রী, সেলিব্রিটি র‌্যাম্প মডেল ও এয়ার হোস্টেসের নাম।

এমনকি দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতো তাদের। কেবল সরকারী কর্মকর্তারাই নয়, প্রভাবশালী নেতারা শামীমের কাছ থেকে শয্যাসঙ্গিনী গিফট পেয়েছেন। জি কে শামীমের এন্টারটেইন মিশনে যাওয়ার আগেই সুন্দরীদের কাছে পৌছে যেত মোটা খামে পিন-আপ করা ‘সম্মানী’। মোটা অংকের টাকা কামাবার লোভে মডেল-অভিনেত্রী মুখিয়ে থাকতো তার ডাক পাওয়ার আশায়। অনেকেই আবার নির্মাতা-পরিচালকের পূর্বনির্ধারিত শিডিউল ফাঁসিয়ে দিয়ে সাড়া দিতো টেন্ডার-সম্রাটের ডাকে। শামীমের সুদৃষ্টি পড়ায় অল্পদিনেই ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাট বা দামি গাড়ির মালিক হয়েছেন একাধিক আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী।

এই প্রমোদবাহিনীর আরেক সুন্দরী টিভিতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পা রাখেন। পরে তাকে মডেলিংয়ে দেখা যায়। হালে চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। কলকাতায় নির্মিত যৌথ প্রযোজনার ছবিতেও অভিনয় করছেন। কলকাতাতেই শামীমের পাঠানো অতিথিদের তিনি সঙ্গ দিয়েছেন। নামকরা একটি ব্র্যান্ডের ম্যাংগো জুসের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে পরিচিতি পাওয়া এক মডেল জি কে শামীমকে শয্যায় সঙ্গ দেওয়ার পাশাপাশি তার হয়ে প্রায়ই নানা জায়গায় গেছেন। সেলিব্রিটি এক ডিজেগার্লকেও বিভিন্ন পার্টিতে তার বাহুসংলগ্ন হয়ে থাকতে দেখা গেছে। লাক্সসুন্দরী হিসেবে খেতাব বিজয়ী একজন মডেল-অভিনেত্রীকে তিনি বড় কাজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সব জানাতে চাইছে না। সামনে তার সূত্রে আরো অপরাধী যাচাই বাছাই করে পাকড়াও করা হবে। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীলরা। অভিযানে যে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মদ পাওয়া গেছে জিজ্ঞাসাবাদে তার চেয়ে ভয়ংকর সব কাহিনী ও অর্থ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।