মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি স্লোগান

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯


মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি স্লোগান

১০ বছর পরে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে যান তারা। এ সময় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীরাও অন্যান্য দিনের মতো সেখানে ভিড় করেন৷

প্রথম থেকেই উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের নেত্রীর নামে স্লোগানে দিচ্ছিলেন৷ স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল মধুর ক্যান্টিন৷

আজ রোববার সকাল সোয় ১১টায় মধুর ক্যান্টিনে প্রবেশ করেন ছাত্রদলের নতুন সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ও সদ্য সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার৷

আগে থেকেই ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসকে মধুর ক্যান্টিনে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়৷ প্রথমে মধুর ক্যান্টিনে প্রবেশ করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল এবং আল মেহেদী তালুকদার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন৷ কিন্তু ঢাবি সভাপতি সনজিতের সঙ্গে হাত বাড়িয়ে কুশল বিনিময় করার চেষ্টা করলেও সনজিতে অসহযোগিতার জন্য তা পারেননি তারা৷

এর পর শ্যামল আর আল মেহেদী তালুকদার মধুর ক্যানটিনের বাম পাশের টেবিলে বসলে তাদের অনুসারিরা ধীরে ধীরে স্লোগান দেন ও ভিড় করতে থাকেন৷ এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন৷ প্রথম দিকে স্বাভাবিকভাবে স্লোগান দিলেও মাঝপথে আক্রমণাত্মক স্লোগান দিতে দেখা যায়৷ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘খালেদার চামড়া তুলে নেবো আমরা’, ‘খালেদার দুই গালে জুতা মার তালে’, ‘ছি! ছি! খালেদা লজ্জায় বাঁচি না’, ‘জয় বাংলা’ ইত্যাদি স্লোগানের সঙ্গে করতালি দিতে দেখা যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের৷ অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শুধু ‘খালেদা, জিয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়৷

মধুর ক্যানটিনে পৌনে ১ ঘণ্টার মতো অবস্থান করে বের হয়ে ছাত্রদলের নতুন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম মধুর ক্যান্টিনে এসেছি৷ কিন্তু ছাত্রলীগ আমাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করেনি৷ তারা উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন৷ আমরা বলব ক্যাম্পাসে এখনো সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি৷’

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রথম পদক্ষেপ কী- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সব সময় পাশে থাকবে৷ আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হলো বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর সহাবস্থান এবং ক্যাম্পাসে  গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা করব৷’