প্রমাণ হয়েছে সরকারের সব স্তর দুর্নীতিগ্রস্ত : ফখরুল

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯


প্রমাণ হয়েছে সরকারের সব স্তর দুর্নীতিগ্রস্ত : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রমাণ করে সরকারের সব স্তর দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে গণতন্ত্র দিবস পালন শুরু হয়। অথচ সে বছরই দেশে সেনা সমর্থিত সরকার আসে। সেদিন থেকেই দেশে গণতন্ত্রহীনতা শুরু হয়। রবিবার আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক দিবস উপলক্ষে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এতে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, দেশে কী হারে দুর্নীতি চলছে। শুধুমাত্র একটা ঘটনা প্রকাশ হয়েছে। ফলস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এভাবেই চলছে সারা দেশ। প্রমাণ হয়েছে সব স্তরে দুর্নীতি চলছে, সবাই মিলে দুর্নীতি করছে।

তিনি বলেন, একেকটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র আছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে যতটুকু জানি তাদের সংগঠনের নেত্রী হলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তিনি সাংগঠনিক অভিভাবক। সুতরাং এখানে বহিষ্কারের কী বিধান আছে সেটা আমার জানা নেই। তবে সাংগঠনিক নেত্রী হিসেবে তিনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। পদত্যাগ করতে বলেছেন, তারা পদত্যাগ করেছেন এখানে জটিলতার কিছু নেই।

ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আইন দিয়ে রাজনীতি হয় না। রাজনীতিকে আদালত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে বিএনপির আপত্তি আছে। এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা যে একটা রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে আদালত। আবার সেটা সরকারই করাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগেই হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রমাণ হয় যে, এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, বিরোধী দলেও বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রই হচ্ছে জনগণ আর দেশের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব যা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে দেশে একটা প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে আজ দুটিই অনুপস্থিত।

আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক দিবসকে সামনে রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে এখন নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র চলছে। দেশে নির্বাচন একটা হচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন করে ক্ষমতা দখলে নিয়ে নিজেদের মতো করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় জনগণকে বলতে চাই, গণতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে আসুন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র মুক্তি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা ও উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র বিনির্মাণ করি। এ লক্ষ্যে সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধে যে গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে বদ্ধপরিকর।

মির্জা ফখরুল বলেন, আশির দশক থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বারবার গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন তিনি আজ মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী। বিশ্ব গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে। ২০০৭ সাল থেকে দেশে গণতন্ত্র দিবস পালন শুরু হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই বছরই এক এগারোর সেনাসমর্থিত সরকার আসে। সেদিন থেকেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রহীনতা শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।