না বুঝেই সংসদে ‘না’ ভোট দিলেন এমপিরা, পরে ‘হ্যাঁ’

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯


না বুঝেই সংসদে ‘না’ ভোট দিলেন এমপিরা, পরে ‘হ্যাঁ’

সাবের হোসেন চৌধুরীর একটি প্রস্তাবে সংসদে না বুঝেই না-ভোট দিলেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। পরে দ্বিতীয় দফায় ভোটে দিলে তারা আবার হ্যাঁ ভোট দেন। আর এর মধ্য দিয়ে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়। বৃস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই ঘটনা ঘটে।

তামাকজাত দ্রব্যের ওপর প্রচলিত অ্যাড-ভেলোরাম (স্তরভিত্তিক মূল্যের শতকরা হার) পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপ করার দাবি জানিয়ে বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব এনেছিলেন সরকারি দলের সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। সংশোধনী দিয়ে তার এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান আরও নয় জন সাংসদ।

সাবের হোসেন চৌধুরী প্রস্তাবের পক্ষে বলেন, ‘বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে। প্রায় ১৫ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। প্রায় ৬১ হাজার শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। যা একই সময়ে তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি।’

সাবের হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে তামাকের যে কর-কাঠামো তা অত্যন্ত জটিল, পুরোনো ও অকার্যকর। বিশ্বের মাত্র ছয়টি দেশে এভাবে করারোপ করা হয়। অন্যদিকে ফিলিপাইন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, অষ্ট্রেলিয়াসহ বেশিরভাগ দেশে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি চালু আছে। এটি করা হলে রাজস্ব আয় বাড়বে।’

জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বর্তমান আইনে তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপের সুযোগ নেই। চলমান বাজেটে স্তরভিত্তিক শুল্কারোপ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এবং গ্রাহকের ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ক্রমান্বয়ে সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়ত একদিন এটি হবে।’

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণত সরকারি দলের সাংসদেরা তাদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু সাবের হোসেন চৌধুরী অর্থমন্ত্রীর জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় প্রস্তাব প্রত্যাহারে রাজি হননি। তখন নিয়ম অনুযায়ী তার প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের জন্য কণ্ঠভোটে দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ওপর প্রচলিত অ্যাড-ভোলোরাম পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপ করা হউক।’

স্পিকার ভোটে বলেন, ‘সাবের হোসেন চৌধুরীর এই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হোক, যারা এর পক্ষে আছেন তারা “হ্যাঁ” বলুন।’ খুব কম সংখ্যক সদস্য ‘হ্যাঁ’ বলেন। স্পিকার বলেন, ‘যারা এর বিপক্ষে আছেন তারা “না” বলুন।’ বেশিরভাগ সদস্য ‘না’ বলেন। অর্থাৎ বেশিরভাগ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়ে দেন। পরে স্পিকার বলেন, মাননীয় সদস্যরা আপনার একটু মনোযোগ দেবেন। তিনি প্রস্তাবটি আবার পড়ে শোনান এবং দ্বিতীয় দফা ভোট দেন। দ্বিতীয় দফায় ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়। এতে সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

এরপর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ফ্লোর নিয়ে দাঁড়িয়ে সাবের হোসেন চৌধুরীকে সমর্থন করেন। স্পিকারের উদ্দেশে মেনন বলেন, ‘আপনার একজন কর্মকর্তা আপনাকে যেন কি বললেন আর আপনি পুনরায় ভোটে গেলেন। এটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত, আপনি এটি স্থগিত করেন।’

এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রথমে আমি একটু কনফিউস ছিলাম। যার ফলে পুনরায় উপস্থাপন করেছি এবং ভিন্ন ফল এসেছে। যদি সংসদ সদস্যরা আপনার (সাবের হোসেন চৌধুরী) পক্ষে ভোট দিতো তাহলে দ্বিতীয় বারের একই ফল হতো। প্রথম ভোটিংয়ের সময় আমার মনে হয়েছে এলোমোলো ছিল। এখানে আমার পক্ষপাতিত্বের কোনো কারণ নেই। আশা করি বিষয়টি নিয়ে আর কোনো কনফিউশন থাকবে না।’