‘বালিশ-পর্দা' দুর্নীতি হাওয়া ভবনের লুটপাটের সঙ্গে মেলালে হবে না: কাদের

৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯


‘বালিশ-পর্দা' দুর্নীতি হাওয়া ভবনের লুটপাটের সঙ্গে মেলালে হবে না: কাদের

পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশ ও ফরিদপুর মেডিকেলের পর্দা কেনার দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বালিশ-পর্দাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি আমলের হাওয়া ভবনের লুটপাটকে মেলালে চলবে না। বালিশ-পর্দাকাণ্ডকে ‘ছিঁচকে কাজ’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

আজ (শনিবার) দুপুরে ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি রূপপুরের বালিশকাণ্ডকে হার মানিয়ে বিস্ময়কর দুর্নীতির নতুন নজির সৃষ্টি করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন রোগীকে আড়াল করার পর্দা কিনেছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকায়।

এর আগে দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়। একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয় ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়।

নজিরবিহীন এ দুর্নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ছিঁচকে কাজগুলো যারা করেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা কিন্তু কোনো এমপি কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী নন।

তিনি বলেন, 'এখানে তো হাওয়া ভবনের মত লুটপাটের বিষয় নেই। যারা এমন অভিযোগ করেন, তারা তো দেশটাকেই লুটপাট করে খেয়েছেন। এখন কিন্তু সরকারের কোনো বিকল্প সেন্টার নেই। লুটপাটের কোনো ভবন এই সরকারের আমলে নেই, এটা আমি দাবি করে বলতে পারি। বালিশ আর পর্দার সঙ্গে তো হওয়া ভবনের লুটপাটের বিষয়কে মেলালে তো চলবে না।'’

'জাতীয় পার্টির বিভক্ত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে এক সময় আমাদের জোট ছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট থাকলেও আদর্শিক কোনো ঐক্য নেই।

তিনি আরও বলেন, 'এখন জাতীয় পার্টি বিরোধী দল। সত্যিকার অর্থের তারা বিরোধী দল হিসেবে শক্তিশালী থাকুক এটা আমরাও চাই। বিরোধী দল নিজেরাই যদি নিজেদের দ্বন্দ্বে দুর্বল হয়ে যায়, এখানে তো আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা চাই এটা জাতীয় পার্টির ব্যাপারগুলো তারা নিজেরাই মীমাংসা করুক। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কোনো দায়িত্ব নেই, জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর আমাদের তো দরকার নেই।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, 'জাতীয় পার্টিতে কী হয়েছে, আমাদের দেখার বিষয় নয়। জাতীয় পার্টি তো আওয়ামী লীগের কোনো শাখা সংগঠন নয় যে, এটা আওয়ামী লীগকে দেখতে হবে। এটা তাদের বিষয়, তারাই দেখবে।'

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বি এম মোজাম্মেল হক, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।