শিশু আরিয়ান শ্রাবণের জামিন, আবারও পিবিআই’র তদন্তের দাবি মিন্নির বাবার

৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯


শিশু আরিয়ান শ্রাবণের জামিন, আবারও পিবিআই’র তদন্তের দাবি মিন্নির বাবার

বরগুনা আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অভিযুক্ত ২৪ নম্বর আসামী শিশু আরিয়ান হোসেন শ্রাবণকে মিডিয়ার সাথে কথা না বলার শর্তে জামিন দেয়া হয়েছে। বুধবার (৪-৯-১৯) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান আরিয়ানের জামিনের আদেশ দেন।  

আসামী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের জামিনের প্রার্থনা করে বলেন, আসামী একজন শিশু। তার বয়স ১৬ বছর স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। সে অপরাধের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নয়। পুলিশ ১৯ বছর দেখিয়ে তাকে চালান দিয়েছে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক আসামীদের সাথে কারাগারে রাখার কারণে  আরিয়ান শ্রাবণ মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্র পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন এপিপি এ্যাড. সঞ্জিব দাস।

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অধিকতর স্বচ্ছ ও  নিরপেক্ষ তদন্তের আবারও দাবী জানিয়েছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ।  

মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ১৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জন নিরাপত্তা বিভাগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিব ও আইজিপি বরাবরে করা আবেদনে উল্লেখ করেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি প্রধান স্বাক্ষী ছিলো। হত্যাকান্ডের ঘটনার ১৯ দিন পরে মামলার প্রধান স্বাক্ষী আমার মেয়েকে হঠাৎ করে মামলার বাদী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেন। একটি প্রভাবশালী মহল ও পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা রিফাত শরীফের বাবা অর্থাৎ বাদীকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে আমার মেয়েকে হত্যার সাথে জড়ানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ রিমান্ডে এনে আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে । যা আমার মেয়ের ঐচ্ছিক জবানবন্দ্বী নয়। আমি রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের দাবীতে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অথবা সিআইডিতে হস্তান্তের দাবী জানাচ্ছি।

এদিকে গতকাল বুধবার মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের বাড়ি বরগুনার মাইঠা গ্রামে গেলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ সব সময় আমাকেসহ আমার পরিবারের সদস্যদের উপর নজর রাখছে। আমি কোথায় যাই কি করছি এ সব খোজ খবর নিচ্ছে ছদ্মবেশে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবীরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি ধরেননি। বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই।