৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর ৫ শতাংশ

২ সেপ্টেম্বর ২০১৯


৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর ৫ শতাংশ

সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে। আর বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে।

এর আগে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। গত জুলাই মাস থেকে তা কার্যকর করা হয়েছে। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করেছে।  প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা অতিক্রম না করলে এই ধরনের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত সুদের ওপর আগের নির্ধারণ করা উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত জুলাই মাস থেকে বর্ধিত উৎসে কর আরোপ করায় কোনো গ্রাহক এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনলে তিনি প্রতি মাসে মুনাফা পাচ্ছেন ৮৬৪ টাকা। জুলাইয়ের অগে এর পরিমাণ ছিল ৯১৬ টাকা। যদিও সঞ্চয়পত্রের প্রকারভেদে তা কিছুটা কমবেশি রয়েছে। তবে সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় প্রতি লাখে গড়ে ৫০ টাকা কম মুনাফা পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট (১৩ জুন) বক্তব্যে সঞ্চয়পত্রের উৎসে করের বিষয়ে কোনো বক্তব্য ছিল না। তবে অর্থবিলে, ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ করার কথা উল্লেখ করা হয়। গত ২ জুলাই সঞ্চয় অধিদফতর এবং ৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে উল্লেখ বলা হয়, নতুন-পুরোনো— সব সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপরই উৎসে কর ১০ শতাংশ।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়ানোর ফলে সমালোচনার মুখে গত জুলাই মাসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ এবং বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার প্রায় দুই মাস পর এনবিআর দুই ধরনের উৎসে কর নেওয়ার বিধান রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।