আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়া কেউ বাংলাদেশি নন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১ সেপ্টেম্বর ২০১৯


আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়া কেউ বাংলাদেশি নন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতের বিজেপিশাসিত আসামের সদ্য প্রকাশিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে যে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন বাদ পড়েছেন, তারা কেউ বাংলাদেশি নন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

তিনি শনিবার ভারতের নিউজ চ্যানেল টাইমস নাউকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন। মোমেন তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর তাকে বলেছেন যে, এ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কোনো পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়বে না।’

নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া লোকেরা বাংলাদেশি কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘আমি এটা মনে করি না। যদি কোনো বাংলাদেশি থেকেও থাকেন তারা ১৯৪৭ সালের কিংবা ১৯৭১ সালের পূর্বে সেখানে গেছেন। ফলে তারা বছরের পর বছর ধরে সেখানে বাস করছেন। আমি তাদের বাংলাদেশি বলে মনে করি না।’

মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশিদের ভারতে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ অনেক ভালো করছে। ফলে কোনো বাংলাদেশির ভারতে যাওয়ার আগ্রহ নেই। বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চেয়ে মাথাপিছু আয় অনেক বেশি। ফলে বাংলাদেশিদের ভারতে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর এনআরসি তালিকাটা কীসের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে সে বিষয়টিও আমি বুঝতে পারছি না।’

এর আগে, অসমের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেছেন, ‘এনআরসি নিয়ে উৎফুল্লিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ১৯৭৯ সাল থেকে যাদের নাম কাটার জন্য আশা করে আসছি, আজ তাদের নাম এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত হলো।’

তিনি বলেন, বিদেশি বিতাড়নে এনআরসি সফল হয়নি, সেজন্য বিদেশি বিতাড়ন করার ‘নতুন চিন্তাধারা’ করা হচ্ছে। বাংলাদেশিদের বহিষ্কার করতে এনআরসি কোনও কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল নয়। অপেক্ষা করুন, আপনারা বিজেপির শাসনে আরও ফাইনাল দেখতে পাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল (শনিবার) প্রকাশিত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এনআরসি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি হিন্দু বাঙালি। ছয় লাখের কিছু বেশি মুসলমান। বাকি দুই লাখের মধ্যে রয়েছে বিহারী, নেপালী, লেপচা প্রভৃতি।

এর আগে, এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া থেকে বাদ পড়েছিল ৪৩ লাখ মানুষের নাম। এর মধ্যে দুই লাখ অবাঙালি, ২৬ লাখ হিন্দু বাঙালি, বাকি সব বাঙালি মুসলমান।