ডেঙ্গু জ্বর: ভয়াবহতা কমলেও আতঙ্ক কমেনি

২৯ আগস্ট ২০১৯


ডেঙ্গু জ্বর: ভয়াবহতা কমলেও আতঙ্ক কমেনি

বাংলাদেশে আত্ঙ্ক সৃষ্টিকারী ডেঙ্গুর জ্বরের ভয়াবহতা কমে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু, সংখ্যার হিসেবে ডেঙ্গুতে মৃত্যূ এবং আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধি অব্যাহতই রয়ে গেছে। তবে, প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাচ্ছিল সে বৃদ্ধির হারটা এখন নিম্নমুখী।ওদিকে, ঢাকার বাইরের কোন কোন জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সী অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারি পরিচালক জানিয়েছেন, ঢাকার ভেতরে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৫৫১ জন। আর ঢাকার বাইরে নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৬০৬ জন।

অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি সাধারণ মানুষের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, থেমে থেমে বৃষ্টি হলে এই সেপ্টেম্বরেও ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক আধ্যাপক ডা: এজাজ আহমেদ বলেছেন, আগামী বছর এডিস মশা ছড়ানোর পিক মৌসুম আসার আগেই মশা নিধন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সরকারের ডেঙ্গু প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা: এম এম আকতারুজ্জামান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ডেঙ্গু মোকাবেলায় একটি  কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে। সে অনুয়ায়ী সিটি কর্পোরেশন এবং  সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কর্মসূচি চালাবে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু:

চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৭ হাজারের বেশি রোগী। আর এ রোগে এ পর্যন্ত ৫২টি মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে  রাজধানীর বেসরকারি সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে শারমিন আকতর নামের একজন নারী এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে  মনিষা নামক ১২ বছরের এক শিশু।  তাছাড়া, গতকাল বুধবার (২৮ আগস্ট)খুলনা ও ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক নারীসহ দু'জন মারা গেছেন।

দায়ী এডিস এলবোপিক্টাস:

এদিকে  ঢাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর পেছনে এডিস এলবোপিক্টাস মশার একটি প্রজাতি দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর সাথে যে দুই ধরণের মশা জড়িত তার একটি এই এডিস এলবোপিক্টাস। অন্যটি এডিস এজিপ্টাই। এর মধ্যে এজিপ্টাই ঢাকা বা শহরাঞ্চলে বেশি থাকে। আর এর বাইরে গ্রামাঞ্চলে এডিস এলবোপিক্টাসের ঘনত্ব বেশি দেখা যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. কবিরুল বাশার বলেন, 'জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর সবচেয়ে উপযোগী সময় ধরা হয়। এডিস এলবোপিক্টাস মহামারি আকারে রোগ ছড়াতে পারে। আর এ ধরণের মশা ঘরের ভেতরে নয় বরং বাইরে কামড়ায়।

এই কীটতত্ত্ববিদ  বলেন,  এডিস এলবোপিক্টাস জন্মানোর  তার মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হচ্ছে গাছের কোটর। এছাড়া বাঁশ কাটার পর সেখানে থেকে যাওয়া গোঁড়াতে পানি জমে  এলবোপিক্টাস মশা দ্রুত বংশ বিস্তার করে।  

আরো বলেন বলেন, 'ঝোপ-ঝাড়ে কচু গাছ  বা  কলাগাছের দুটো পাতার মাঝখানে  যে পানি জমে সেগুলেআতে বলা হয়  ন্যাচারাল কন্টেইনার।আর এরকম ন্যাচারাল কন্টেইনারেই  এলবোপিক্টাস  বেশী জন্মায়। - পার্সটুডে