ফের বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী আরো দুজনের মৃত্যু

২৬ আগস্ট ২০১৯


ফের বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী আরো দুজনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে আর বাড়ছে। নতুন রোগী ভর্তির হার সবচেয়ে কমে আসার পরদিনই ফের বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গতকালও মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলায় দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে মাদারীপুরের শিবগঞ্জ উপজেলায় সুমি আক্তার নামে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে। কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুজ্বরে মাহফুজা (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত শনিবারের তুলনায় এই সংখ্যা ১২০ জন বেশি। সারাদেশে নতুন রোগী ছিলেন ১ হাজার ১৭৯। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৬০৭ জন, ঢাকার বাইরে ভর্তি হন ৬৯২ জন। এর আগরে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৫৭০ জন এবং ঢাকার বাইরে ৬০৯ জন এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৬৩ হাজার ৫১৪ জন নাগরিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ হাজার ৪০৫ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে । হাসপাতালগুলোতে এখন ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৯৪০ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ৩ হাজার ২৬৮ জন এবং সারাদেশে ২ হাজার ৬৭২ জন।

রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশের ৫৩টি হাসপাতাল থেকে তাদের কাছে ডেঙ্গু সন্দেহে ১৬৯টি মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ৮০টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৪৭টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। তবে বেসরকারিভাবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্তত ১৭৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

গণমাধ্যমে আসা মৃত্যুর তথ্যগুলোও আইইডিসিআর পর্যালোচনা করছে জানিয়ে ফ্লোরা বলেন, ‘সব হাসপাতাল থেকে তথ্য পেতে আমাদের দেরি হয়ে যায়। তারপর রোগীর রক্ত নমুনা পরীক্ষার পর আমরা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, তিনি ডেঙ্গুতে মারা গেছেন কি-না। ফ্লোরা আরো জানান, সব হাসপাতাল তৎক্ষণাৎ তথ্য দেয় না। আইইডিসিআরও পরিবারের কাছ থেকে তথ্য নেয়। তবে আমাদের যে হটলাইন নম্বর আছে, তাতে মতু্যুর কোনো তথ্য আসেনি। সব বিভাগের মধ্যে বরিশালে ডেঙ্গুর আক্রান্তের হার বেশি। আইইডিসিআর সেখানে এপিডেমিক্যাল ও এন্টোমোলোজিক্যাল সার্ভে করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের অন্য জেলায় ১৭৪ জন, চট্টগ্রামে বিভাগে ৮৪ জন, খুলনা বিভাগে ১৬৬ জন, রংপুর বিভাগে ২৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১২৬ জন, সিলেট বিভাগে ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ৯৬ জন, এসএসএমসি ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ৯৪ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৮ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৪৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও বিএসএমএমইউতে ৩০ জন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ৮ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৭ জন, পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১১ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৬০ জন রোগী, নিটোরে ২ জন ও কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নতুনভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৭৮ জন রোগী। এদের মধ্যে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৭ জন, বারডেম হাসপাতালে ১ জন, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, ধানমণ্ডি ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৫ জন, কমফোর্ট নার্সিংয়ে ১ জন, ল্যাব এইড হাসপাতালে ২ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৬ জন, হাই কেয়ার হাসপাতালে ২ জন, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৪ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।

খিদমা জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৪ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, অ্যাপোলো হাসপাতালে ১৫ জন, আদ-দ্বিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, আজগর আলী হাসপাতালে ৯ জন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৫ জন, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ৯ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪ জন ও আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।