‘খাবার টেবিলে বসে ফাঁসির আদেশে সই করতেন জিয়াউর রহমান’

২৪ আগস্ট ২০১৯


‘খাবার টেবিলে বসে ফাঁসির আদেশে সই করতেন জিয়াউর রহমান’

জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর সেনাবাহিনীতে থাকা প্রচুর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির আদেশ দেন। যার সঠিক ইতিহাস কারো জানা নেই। আর এই সঠিক ইতিহাস খুঁজে বের করতে হলে কমিশন গঠন করতে হবে। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘ইতিহাসের অবরুদ্ধ অধ্যায় : ১৯৭৫-৯৬’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা ও পরবর্তী সময়ে সেনা বাহিনীর অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয় সভায়। বক্তারা বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর লোক দেখানো ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। যেখানে ফাঁসির আদেশে সই করে পাঠাতেন তিনি। আর ট্রাইব্যুনালের কাজ ছিল তা পড়ে শোনানো।

আলোচকদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সাংবাদিক জাহিদুল হাসান পিন্টু, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

তারানা হালিম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে স্থান করে দিতে সেনা বাহিনীর অভ্যন্তরে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। এ সময় ১১ হাজার ৪৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। আরও সাড়ে চার হাজার সেনা সদস্যের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।’

সাংবাদিক জাহিদুল হাসান পিন্টু বলেন, ‘আমার গবেষণায় পাওয়া তথ্যে কুমিল্লার এক জল্লাদ একাই ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন ৯২ জনকে। এই ফাঁসি কার্যকরের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে জেনেছি, ফাঁসির রায়ে আগেই জিয়ার সই দেওয়া থাকত। তারা শুধু জিয়ার দেওয়া রায় পড়ে শোনাত।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘খাবার টেবিলে বসে জিয়া একহাতে খাবার খেয়েছে ও অন্যহাতে ফাঁসির আদেশে সই করে গেছে।’

সভায় বুদ্ধিজীবী সন্তান নুজহাত চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করে আমার বাবাকে হত্যা করা আত্ম-স্বীকৃত খুনি দৈনিক ইনকিলাবের মাওলানা এম এ মান্নানকে প্রতিমন্ত্রী করেন। আর এরশাদ তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করেন। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, কেন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে যুদ্ধাপরাধীদের পুন স্থাপন করেছিলেন জিয়া? কেন যুদ্ধ চলাকালে তাকে সেক্টর কমান্ডার পদ থেকে বহিষ্কার করেছিলেন জেনারেল ওসমানি? সেকি আইএস-এর এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা হাতে নিয়েছিল? আমার মনে হয় এ প্রশ্নগুলো করার সময় এসেছে।

প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান। তিনি বলেন, ‘বিদেশে যেকোনো গণমাধ্যমের প্রতিটি বিভাগ ভিত্তিক ফেসবুক ভেরিফাইড পেজ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমের তা নেই। তিনি একটি বেসরকারি টিভির নাম বলে জানান, তাদের নামে ২০টির বেশি ফেসবুক পেজ রয়েছে যেগুলো থেকে মাঝে মধ্যে ভুল তথ্যও প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু এ সবগুলো পেজ ওই প্রতিষ্ঠানের নয়।

বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস চর্চার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে ব্লগার ও কলামিস্ট মারুফ রসুল বলেন, ‘সরকারের এ বিষয়ে পৃথক একটি অধিপ্ততর খোলা প্রয়োজন। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে চলা প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় সরকারের প্রতিটি দপ্তরকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ সকল স্থানে সরকারি দপ্তরগুলোর অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।’