রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যে কারণ ও প্রতিক্রিয়া

২৩ আগস্ট ২০১৯


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যে কারণ ও প্রতিক্রিয়া

রোহিঙ্গাদের অনিহায় দ্বিতীয় দফা ভেস্তে গেছে তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। নিজ দেশে ফিরে যেতে নানা দাবি তুলেছে রোহিঙ্গারা। এসব দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রত্যাবাসনের জন্য আগে তাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিতে হবে; জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল ফেরত দিতে হবে; নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; রাখাইনে তাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এছাড়া রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন, মিয়ানমারের আইডিএফ ক্যাম্পে থাকা ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে মুক্তি দেয়ার নতুন দাবিও তুলেছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা যখন নিজদেশে ফিরে যেতে অনিচ্ছুক, তখন মিয়ানমারে তাদের ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ নেই বলে জানালো জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন জানিয়েছে, মিয়ানমারের সংখ্যালঘুরা সেনাবাহিনীর যৌন সহিংসতার শিকার। রাখাইনের পাশাপাশি এখনো কাচিন ও শান রাজ্যে সেনারা সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর জনগণের ওপর যৌন সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে।

অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বলছে, সেনারা নিয়মিত ধর্ষণ, নারী, পুরুষ, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে এটি ইচ্ছাকৃত ও পূর্ব পরিকল্পিত কৌশল। যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

এদিকে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে শক্ত অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আজ (শুক্রবার) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক অনুষ্ঠান শেষে এ ঘোষণা দেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল করার দায়িত্ব মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। মানবিক দিক থেকে আমাদের যা যা করার ছিল, সব করেছি। এখন অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বুঝিয়ে দেশে ফেরত নেয়ার দায়িত্ব মিয়ানমারের; কারণ তারা তাদের নাগরিক। মিয়ানমারকে তাদের লোকদের মধ্যে আস্থা আনাতে হবে। নিজেদের এবং এ অঞ্চলের শান্তি শৃঙ্খলা স্বার্থে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে। ভিয়েতনাম, চীন, রাশিয়া এমনকি ভারতও এখন বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একবাক্যে সমর্থন দিচ্ছে বলে দাবি করেন আব্দুল মোমেন।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠানো দরকার। তা না হলে বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট হতে পারে। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমস্যা উত্তরনে একটি কমিশন করা যেতে পারে। এ কমিশন, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা এবং অন্যান্য সবার এখন কাজ হচ্ছে মিয়ানমার যাওয়া। সেখানে গিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের এখানে তাদের আর কাজ নেই। সেখানে যদি তাদের প্রবেশ করতে না দেয়, তাহলে আমি বলব তারা মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা করে কেন? আমেরিকায় মিয়ানমার এখনো জিএসপি সুবিধা পায় কেন? আমি বলব, জাতিসংঘ রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু ভুল করেছে। এখন সবাইকে নতুন করে ভাবতে হবে। এ সময়, দ্বিতীয় দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল না হলেও প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলে জানান আব্দুল মোমেন।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু হলে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ১৯৭৮ সালে শুরু হয় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের বেশি। সূত্র:  পার্সটুডে