২১ আগস্ট হামলার পলাতক ১৮ আসামির কে কোথায়

২১ আগস্ট ২০১৯


২১ আগস্ট হামলার পলাতক ১৮ আসামির কে কোথায়

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার মোট আসামি ছিল ৫২ জন। যাদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়ে ৪৯ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

যাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় তিন সাবেক আইজিপিসহ ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে। তাদের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ জন। কিন্তু এখনো পলাতক আছেন তারেক রহমানসহ ১৮ জন।

গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, পলাতকদের মধ্যে তারেক রহমান এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ ও আরেক ভাই যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাবু ওরফে রাতুল বাবু বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে তাজউদ্দিনকে দেশে ফেরাতে গত কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ আছেন সৌদি আরবে। তবে হারিস চৌধুরীর অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে তিনি পালিয়ে থাকছেন।

এরই মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা হয়েও প্রকৃত দোষীদের বাঁচানোর চেষ্টা ও প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে চার বছর করে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মেজর জেনারেল এটিএম আমিন এবং সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। ভারতের তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন হরকাতুল জিহাদ সদস্য দুই ভাই মহিবুল মুক্তাকিন ওরফে মুক্তাকিন ও আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন। তাদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

অন্যদিকে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মো. ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার এবং দুই বছর করে দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন উপকমিশনার ওবায়দুর রহমান এবং খান সাঈদ হাসান এখনো পলাতক জীবনযাপন করছেন।