মঙ্গলবার | ৩ আগস্ট ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • বিদেশি প্রভাবিত প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে
  • গ্রিন পার্টির নেতা অনামী পলকে দল থেকে বহিস্কারের কোনো সুযোগ নেই
আমাদের মনো ভাই

: ১৯ জুলাই ২০২১ | আব্দুল হালিম মিয়া |

আমাদের মনো ভাই

গতরাতে বলতে গেলে ঘুমুতে পারি নি মোটেই। শুধুই মন জুড়ে ছিলেন মনো ভাই।

রাজবাড়ী (সরকারী) কলেজের সাবেক ভিপি (১৯৭৩), গোয়ালন্দ রাজবাড়ীর বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মনিরুজ্জামান মনো ভাই ছিলেন আমার নয়া কাকা মরহুম ইমান মিয়ার মেঝ সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান(হান্নান) ভাই এর ঘনিষ্ট বন্ধু। মনো ভাই করতেন ছাত্র ইউনিয়ন আর হান্নান ভাই ছাত্রলীগ। গোয়ালন্দের তৎকালীন একমাত্র ফটো স্টুডিও কাসেম কাকার নাজমা স্টুডিওতে হান্নান ভাই ও মনো ভাইয়ের একটি যুগল নায়কোচিত ছবি দীর্ঘদিন শোভা পেয়েছিল। ভাইয়ের বন্ধু সেই কারণ ও কিছুটা অধিকারে বিশেষ স্নেহ আদায় করে নিতে চেষ্টা করেছিলাম মনো ভাইয়ের কাছ থেকে। আজ শুধু এতটুকু লিখতেই চোখে পানি এসে যাচ্ছে! পরে একদিন বিস্তারিত লিখবো। আমাদের বাসার কাছেই এসে বাড়ী করলেন, স্মৃতি, তৃপ্তি দুটো ফুটফুটে মেয়ে চোখের সামনে বেড়ে উঠতে লাগলো। তৃপ্তি এখন টরন্টোতে আমার বাসার সামান্য দুরে থাকে। গতরাতে যখন ফোন করে কামরানের সাথে কথা বলি পাশেই ওর বুক ফাটা কান্নার আওয়াজে কি সান্তনা দিব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আজ বিকালে ওদের বাসায় যাব।

হাজারো স্মৃতি মনো ভাইয়ের সাথে। ১৯৯০ সালে যাদের কথায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে কিছুটা বাধ্য হই, অনুপ্রাণিত হই, বিজয়ী হই, সেই কয়েকজন নীতি নির্ধারকদের মধ্যে মনো ভাই ছিলেন অন্যতম।

১৯৮৭ সালে গোয়ালন্দে ঘুষ দুর্নীতি বন্ধে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গড়ে তুলি জনকল্যাণ সংসদ। মনো ভাই তখন ছিলেন বিএনপির সভাপতি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপির চরম দু:সময়ে মাত্র গুটি কয়েক মানুষ যারা গোয়ালন্দে বিএনপির প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন তার মধ্যে মনো ভাই, গুলজার ভাই, বদের ভাই অন্যতম। যাইহোক পরে এক সময় স্মৃতিচারণ করবো আশা করি।

নীচের ছবিতে গোয়ালন্দ শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবের মাঠে জনকল্যাণ সংসদ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মনিরুজ্জামান মনো ভাই, পাশে কামরুল ইসলাম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মহিত হীরা ভাই, আমি (চাদর পরিহিত) এবং গোয়ালন্দের তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আব্দুল লতিফ মাষ্টার চাচা সহ আরো অনেকে রয়েছেন।

মনো ভাই বিগত কয়েক বছর অসুস্হ্য থাকলেও যখনই বাংলাদেশে গিয়েছি প্রত্যেক বার কাছে এসে বসে থাকতেন। খুব একটা কথা বলতে পারতেন না, তবুও পাশে বসে শুনতেন, বুঝা যেত আমাদের কথাবার্তা স্মৃতিচারণ এনজয় করছেন। আমিও চেষ্টা করতাম তাঁর বাসায় বা বাসার বাইরে তাঁর সাথে দেখা করতে। মনো ভাইয়ের স্ত্রী, আমাদের ভাবী একজন অসাধারণ মহিলা। মনো ভাইদের গ্রাম বাহাদুরপুর বলে এবং আরো অনেক কারণে ওই গ্রামটির প্রতিও রয়েছে আমার বিশেষ টান।

মনো ভাই গতকাল টরন্টো সময় সন্ধা ৭:৩০ মিনিটের দিকে ইন্তেকাল করেছেন। আমি মনিরুজ্জামান মনো ভাইয়ের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। পরিবারের প্রতি জানাই গভীর শোক ও সমবেদনা।

স্কারবোরো, কানাডা


[email protected] Weekly Bengali Times

-->