মঙ্গলবার | ৩ আগস্ট ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • বিদেশি প্রভাবিত প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে
  • গ্রিন পার্টির নেতা অনামী পলকে দল থেকে বহিস্কারের কোনো সুযোগ নেই
ফরাসি ভাষার কানাডীয় লেখক গ্যাব্রিয়েল রয়

: ১৯ জুলাই ২০২১ | সুব্রত কুমার দাস |

গ্যাব্রিয়েল রয়

কানাডার ফরাসি-ভাষী লেখকদের মধ্যে গ্যাব্রিয়েল রয় (১৯০৯-১৯৮৩) বিশেষ উল্লেখের দাবীদার। ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ দ্য টিন ফ্লুট’-এর জন্য তিনি ১৯৪৭ সালে গভর্নর জেনারেল পুরস্কার পান। উল্লেখ করা যেতে পারে ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত স্ট্রিট অব রিচেসএবং ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত চিল্ড্রেন অব মাই হার্টউপন্যাসের জন্যও গ্যাব্রিয়েল গভর্নর জেনারেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। কানাডীয় সাহিত্যে স্বল্প যে কজন সাহিত্যিক তিনবার করে বহুল আকাক্সিক্ষত এই পুরস্কারটি পেয়েছেন গ্যাব্রিয়েল তাঁদের মধ্যে অন্যতম। আরও বলে রাখা যেতে পারে যে, ১৯৮৭ সালে গ্যাব্রিয়েলের আত্মজীবনী এনচ্যান্টমেনট অ্যান্ড সরোর ইংরেজি অনুবাদকও গভর্নর জেনারেল পুরস্কার লাভ করেন। মূল ফরাসি থেকে ইংরেজিতে চার শ পৃষ্ঠার এই বিশাল বইটি অনুবাদ করেছিলেন প্যাট্রিসিয়া ক্লাক্সটন। উল্লেখ করে রাখা উচিত হবে যে প্যাট্রিসিয়ার অনুবাদে ফ্রাঙ্কোয়েস রিচার্ডের লেখা প্রায় ছয় শ পৃষ্ঠার জীবনীগ্রন্থ গ্যাব্রিয়েল রায়: অ্যা লাইফবইটিও ১৯৯৯ সালে ফরাসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ শাখায় ওই পুরস্কার লাভ করে।

ফরাসি ভাষায় দ্য টিন ফ্লুটউপন্যাসটির নাম ছিল ‘Bonheur D`occasion’বলে রাখা প্রয়োজন সে সময় পর্যন্ত ফরাসি ভাষার গ্রন্থকে পুরস্কার দেওয়ার প্রবর্তন হয়নি, ফরাসি থেকে ইংরেজিতে অনুদিত গ্রন্থকেই শুধুমাত্র বিবেচনা করা হতো। দ্য টিন ফ্লুট’-এর অনুবাদক ছিলেন হানা জোসেফসন। সেটি প্রকাশিত হয় আমেরিকা থেকে। উপন্যাসটির যে অনুবাদটি বর্তমান লেখকের পড়ার সুযোগ হয়েছে সেটির অনুবাদক এলান ব্রাউন। ১৯৮১ সালে নতুন এই অনুবাদটি প্রকাশিত হয় কানাডা থেকে। মন্ট্রিয়লের সেইন্ট হেনরী অঞ্চলের বস্তিতে ১৯৪০ সালের ফেব্রæয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দ্য টিন ফ্লুট’-এর কাহিনি বিস্তৃত। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাল। চলছে মহামন্দা। এটি কানাডীয় ফরাসি ভাষার সাহিত্যে এত বেশি আলোড়ন তুলেছিল যে, ফ্রান্সের প্রিক্স ফেমিনাপুরস্কারও লাভ করে বইটি। বইটি নিয়ে সিনেমা তৈরি হয় ১৯৮৩ সালে। আত্মজীবনীটির ইংরেজি অনুবাদের শেষে বলা আছে বইটি স্প্যানিশ, ডেনিশ, সুইডিশ, নরওয়েয়ান, ¯øাভাক, চেক, রোমানিয়ান এবং রাশিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উপন্যাসে ফ্লোরেন্টাইন ল্যাকাসি নামের এক তরুণী ওয়েট্রেসকে আমরা পাই। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত দশ ভাই-বোনের বড়ো ফ্লোরেন্টাইন কাজ করে ফাইভ এবং টেনহোটেলে। স্বপ্ন আছে বড়ো হবার। বাবা-মার জন্য ¯œহশীল এবং দায়িত্বশীল এই মেয়েটি প্রেমে পড়ে জ্যাঁ ল্যাভেস্ক নামের এক উচ্চাকাক্সক্ষী পুরুষের। ততোদিনে ফ্লোরেন্টাইনের পেটে সন্তানও এসে গেছে। কিন্তু জ্যাঁ দ্রæতই ক্লান্ত হয়ে পড়ে সম্পর্ক রক্ষায়। আর তখন মঞ্চে দেখা যায় ইমানুয়েল নামের এক সৈনিকের। ছুটিতে থাকা এই সৈনিককে ফ্লোরেন্টাইনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল জ্যাঁ নিজেই। ইমানুয়েল প্রেমে পড়ে ফ্লোরেন্টাইনের। দুজনের বিয়ে হয়। ইমানুয়েলকে ভালোবাসে ফ্লোরেন্টাইন। স্বপ্ন দেখে পেটের সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবেই ভাববে ইমানুয়েল।

সমালোচকদের মতে কুইবেক প্রদেশের নগরায়নের সত্যিকার চিত্রায়ন পাওয়া যায় গ্যাব্রিয়েল রয়ের এই উপন্যাসটিতে। এর আগে কুইবেক বলতে মানুষ জানতো গ্রামীণ জনজীবন, একটি প্রথাবদ্ধ জীবন। সে জীবনের যে পরিবর্তন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং মহামন্দার ভেতর দিয়ে সংঘটিত হয়েছে, যে পরিবর্তনের ভেতর দিকে একটি নগর সংস্কৃতির আলোক বিকশিত হয়েছে, লেখক সেটিকে ধরতে সক্ষম হয়েছেন পুঙ্খানুপুঙ্খতায়। পূর্ণ বাস্তবতায় সমাজকে ধরার এই ক্ষমতাই গ্যাব্রিয়েলকে খ্যাতি এনে দিয়েছিল। পরিণত করেছিল কানাডায় ফরাসি-ভাষী সাহিত্যচর্চার প্রধান ব্যক্তি হিসেবে। জানা যায়, আমেরিকায় বইটির সাত লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়। এমন-কি জনসমাগম এড়াতে গ্যাব্রিয়েলকে মন্ট্রিয়ল ছেড়ে শৈশবের শহর ম্যানিটোবাতে চলে যেতে হয়।

গ্যাব্রিয়েলের পদবীটি যে কোনো বাঙালিকে আকর্ষণ করবে সন্দেহ নেই। গ্যাব্রিয়েল ছিলেন বাবা লিওন রয় (১৮৫০-১৯২৯) এবং মা মেলিনা ল্যান্ড্রির (১৮৬৭-১৯৪৩) সন্তানদের মধ্যে কনিষ্ঠ। ওঁর বাবা কাজ করতেন সেটেলমেন্ট অফিসে। সেখানে তাঁর চাকরি চলে গেলে সেলাই করে মা সংসার চালিয়েছেন। গ্যাব্রিয়েলের জন্ম কিন্তু ম্যানিটোবার সেইন্ট বোনিফেস শহরে। কিন্তু ইউরোপ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৯৩৯ সালে মন্ট্রিয়লে বসতি গড়েন। গ্যাব্রিয়েলের উপন্যাসগুলোতে তাই দুটি জীবনের চিত্র পাওয়া যায় Ñএকটি হলো মন্ট্রিয়লের মন্দাকালীন জীবন এবং অন্যটি ম্যানিটোবার গ্রামীণ জীবন, যেখানে গ্যাব্রিয়েল কাটিয়েছেন তাঁর শৈশব-কৈশোরের মধুর দিনগুলো।

লিওন রয়ের বাবার নাম ছিল চার্লস রয় (১৮০৩-১৯০০)। চার্লসের বাবা ছিলেন জ্যাঁ রয় (১৭৬৭-১৮৩৩)। উইকিট্রি বলছে জ্যাঁ রয়ের জন্ম হয়েছিল কুইবেকে। জ্যাঁ-র বাবা ছিলেন গুইলাম রয় (১৭৪০-১৮০০)। গুইলামের বাবা ছিলেন পিয়ের বানার্ড রয় (১৭০৬-১৭৮৩)। উইকিট্রি আরও জানাচ্ছে ওঁদের পূর্বপুরুষের একসময় পদবী ছিল লিরয়। ধারণা করা হয় সেখান থেকে পারিবারিক পদবী এক সময় রয় হয়ে যায়। তবে লিরয় পদবীটা আসলে এসেছিল ওদের আরও পূর্বের পুরুষ লিরয় ডি নর্সম্যান (আনুমানিক ১০৯০-১১০০) এর নাম থেকে। লিরয় ছিলেন স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা।

২০১৭ সালে গ্যাব্রিয়েলের ১০৮তম জন্মদিনে মার্গারেট অ্যাটউড তাঁকে নিয়ে এক রচনা লিখেছেন। ছাপা হয়েছিল ম্যাকলিনসাহিত্য পত্রিকাতে। ‘Gabrielle Roy, in nine parts’ শিরোনামের সেই লেখাটি ২০১৬ সালে ‘Legacy: How French Canadians Shaped North America’ শিরোনামের বইয়ে প্রথম প্রকাশিত হয়। লেখাটি মার্গারেট শেষ করেছেন ২০০৪ সালে কানাডায় কুড়ি ডলারের নোটে ব্যবহৃত গ্যাব্রিয়েলের উদ্ধৃতিটি দিয়ে। ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় উৎকীর্ণ সে উদ্ধৃতিতে লেখা ছিল ‘Could we ever know each other in the slightest without the arts?’  সেটা যে আমরা পারি না সে কথাই মার্গারেট ব্যাখ্যা করেছেন এবং জানিয়েছেন কীভাবে বর্তমান সময়ে গ্যাব্রিয়েল রয় আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

১৯৬৭ সালের ৬ জুলাই কম্পেনিয়ন অব দ্য অর্ডার অব কানাডা’ (সি.সি.) অভিধায় ভূষিত হন গ্যাব্রিয়েল। শংসাবচনে লেখা ছিল: One of the greatest Canadian novelists whose work won one of the first to be recognized outside of the country

সারা কানাডায় মোট সাতটি স্কুল আছে গ্যাব্রিয়েলের নামে। ফরাসি ভাষা শিক্ষাদানের সে সকল প্রতিষ্ঠানের একটি টরন্টোতে অবস্থিত Ñ ১৪ পেমব্রæক স্ট্রিটে অবস্থিত। ২০০৪ সালে ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস সমকালীন আরেক খ্যাতিমান সাহিত্যিক মার্গারেট লরেন্সের সাথে গ্যাব্রিয়েল রয়ের পত্রালাপের একটি সংকলন প্রকাশ করেছে ‘Intimate Strangers’ শিরোনামে।

গ্যাব্রিয়েল রয়ের রচনা সম্ভারের প্রতি একটু আলোকপাত করা যেতে পারে। পূর্বে উল্লেখিত বইগুলো বাদে বাকি প্রকাশিত বইগুলো হলো: হোয়ার নেস্টস দ্য ওয়াটার হেন (১৯৫০), দ্য ক্যাশিয়ার (১৯৫৪), দ্য হিডেন মাউন্টেইন (১৯৬১), দ্য রোড পাস্ট আলতামন্ট (১৯৬৬), ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার (১৯৭০), এনচ্যান্টেড সামার (১৯৭২), গার্ডেন ইন দ্য উইন্ড (১৯৭৫), মাই কাউ বর্সি (১৯৭৬), দ্য ফ্রেজাইল লাইটস অব হার্ট (১৯৭৮), ক্লিপটেইল (১৯৭৯), দ্য টরটয়েজশেল অ্যান্ড দ্য পেকিনিজ (১৯৮৭)।

গ্যাব্রিয়েলের পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাস স্ট্রিট অব রিচেচঅধিকাংশতই আত্মজৈবনিক। সেখানেও একটি মেয়েকে আমরা পাই যে কিনা ক্রমে ক্রমে খ্যাতিমান লেখকে পরিণত হয়। এছাড়াও ম্যানিটোবায় গ্যাব্রিয়েলের শৈশবকালে ফরাসি-কানাডিয়ান এবং ইংরেজ-কানাডিয়ানদের যে বিভাজন ছিল সেটিও ফুটে উঠেছে উপন্যাসের কাঠামোতে। ক্রিস্টিন নামের কিশোরী মেয়েটির এই গল্পটি চলতে থাকে ‘The Rood Past Altamont’ উপন্যাসেও।

পুরস্কারপ্রাপ্ত আরও একটি উপন্যাস চিলড্রেন অব মাই হার্টও কিন্তু আত্মজৈবনিক। এটিই ছিল নন্দিত এই লেখকের কথাসাহিত্য রচনার শেষ নিদর্শন। এই উপন্যাসের চরিত্রটির নাম কিন্তু লেখকের নামেই। সেখানে তিনি শিক্ষক,  ১৯৩০ এর দশকে তরুণ গ্যাব্রিয়েলকে যেমনটি আমরা দেখেছিলাম। বলে রাখা যেতে পারে গ্যাব্রিয়েলের পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনটি উপন্যাসই সিনেমায় রূপান্তরিত হয়েছে।

গ্যাব্রিয়েল রয়: অ্যা লাইফজীবনীতে লেখক গেব্রিয়েলের জীবনকে বিস্তারে ধরা হয়েছে। অনেক অনুপুঙ্খ বর্ণনা আছে গ্যাব্রিয়েলের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে, অগ্রসরণ নিয়ে। প্রথম উপন্যাস দ্য টিন ফ্লুটনিয়ে জীবনীকার ফ্রাঙ্কোয়েস জানাচ্ছেন যে, লেখক উপন্যাসটির দুটি পান্ডুলিপি করেছিলেন। সংশোধিত দ্বিতীয় পান্ডুলিপিটি শেষ করার পর গ্যাব্রিয়েল গেলেন জ্যাকুলিন জেনিসেটের কাছে। ওটির একটি ঝকঝকে টাইপড কপি পেতে। জ্যাকুলিনের বরাদ দিয়ে জীবনীকার জানাচ্ছেন, সেদিন পান্ডুলিপিটি তাঁর হাতে এমন করে ধরা ছিল যেমন করে একজন মা তার বাচ্চাকে ধরে থাকেন। জ্যাকুলিনকে ২৫ ডলার দিয়েছিলেন পারিশ্রমিকের অগ্রীম হিসেবে। পরে দুটি বাঁধানো খন্ডে ৪৯৯ পৃষ্ঠার ওই পান্ডুলিপিটি তিনি প্রকাশকের কাছে জমা দেন (পৃ: ২৪৪)। এরপর আগস্ট মাসের ২৮ তারিখে প্রকাশকের সাথে গ্যাব্রিয়েলের চুক্তি হয়। চুক্তিতে লেখা ছিল লেখক ১০ শতাংশ হারে রয়ালটি পাবেন এবং গ্রন্থ প্রকাশের পর রয়ালটি বাবদ ১০০ ডলার অগ্রীম পাবেন। কথা ছিল অক্টোবরের শেষ নাগাদ বইটি প্রকাশিত হবে। কিন্তু তা হয়নি। পরের বছরের ফেব্রুয়ারীতে পত্রিকায় ঘোষণা দেওয়া হয় কয়েকদিনের মধ্যে বইটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেটাও হয়নি। ফরাসি ভাষার গ্রন্থটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে ১৯৪৫ সালের জুন মাসে। জীবনীকার বলছেন, গ্যাব্রিয়েলের প্রথম বই প্রকাশের বিষয়টি যেন অনেকটা সিন্ডারেলার গল্পের মতো ছিল। আমরা জানতে পারি এই বই রাতারাতি একটি সাধারণ কৃষি পত্রিকার একজন সাধারণ সাংবাদিককে দেশজুড়ে একজন সেলিব্রেটিতে পরিণত করে। বহু পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। বিপুল অর্থও আসতে থাকে। সাংবাদিকরা তাঁর সাক্ষাৎকার পেতে হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে। ফ্রাঙ্কোয়েসের ভাষায় কানাডীয় সাহিত্য বা কুইবেকীয় সাহিত্যে এই গ্রন্থের প্রকাশ সর্বপ্রথম একটি আমেরিকান স্টাইল’-এর ঘটনা। এরপর ১৯৪৭ সালে বসন্তকালে বইটির আমেরিকান অনুবাদ প্রকাশিত হলো এবং গ্যাব্রিয়েল রয় শীর্ষ সাহিত্যিকের আসনে বরিত হলেন।

ফরাসি ভাষায় প্রথম সংস্করণ ছাপা হয়েছিল দুই হাজার কপি। চার মাসেই সেটি শেষ হয়ে যায়। ১৯৪৫ সালের অক্টোবর মাসে আরও চার হাজার কপি ছাপা হয়। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সেটি শেষ হলে আরও তিন হাজার কপি ছাপানো হয়। আমেরিকার বাজার ধরার জন্য ১৯৪৫ এর শেষ দিকেই ব্যাপক চেষ্টা চলতে থাকে। ডিসেম্বরেই চুক্তি সম্পন্ন হয়। অগ্রীম হিসেবে গ্যাব্রিয়েল পাঁচ শ ডলার হাতে পান (পৃ: ২৫৪)। অনুবাদের কাজ যখন চলছে তখন ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরে লিটারারি গিল্ড অব আমেরিকার প্রধানের সাথে চুক্তি হয় যে, ১৯৪৭ এর মে মাসেই দ্য টিন ফ্লুটহবে বুক অব দ্য মানথআর সে জন্য মোট ৬ লক্ষ কপি বই দরকার হবে Ñ প্রকাশক এবং লেখক পাবেন তিরানব্বই হাজার ডলার। জীবনীকার জানাচ্ছেন লিটারারি গিল্ডের ইতিহাসে এটি হলো প্রথম এমন একটি চুক্তি যেটি করা হয়েছিল এমন একটি বই নিয়ে যেটি তখনও আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৪৭ সালের ২১ এপ্রিল নিউ ইয়র্কে বুক লঞ্চিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ২ জুন হলিউডের সিনেমা কোম্পানি ইউনিভার্সাল পিকচার্স ঘোষণা দেয় তারা মুভির জন্য ৭৫ হাজার ডলারের চুক্তিতে গল্পটি কিনেছে। ১ ডিসেম্বর তিনি ফরাসি ভাষার উপন্যাসটির জন্য প্রিক্স ফেমিনা পুরস্কার পেলেন। ঘোষণা হলো তিনি গভর্নর জেনারেল পুরস্কার পেয়েছেন। সংবাদ হলো সে বইটি কানাডায় ২৫ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। হিসেব করলে দেখা যায় ১৯৪৬ এবং ১৯৪৭ সালে গ্যাব্রিয়েল বইটি থেকে মোট লেখক সম্মানী পেয়েছিলেন এক লক্ষ ডলার।

আগ্রহী পাঠকের জন্য বলে রাখতে চাই গ্যাব্রিয়েলের আত্মজীবনীটি একটু অসম্পূর্ণ। পরিকল্পনায় তিন অথবা চারটি খÐ করার ইচ্ছা থাকলেও তিনি মাত্র দুটি খÐ শেষ করতে পেরেছিলেন, আর তাই সেটিতে দ্য টিন ফ্লুটরচনার আগ পর্যন্ত আমরা পাই। ফ্রাঙ্কোয়েসের বিশালাকার জীবনীটি লেখক গ্যাব্রিয়েল রয়কে বুঝতে এক অসামান্য উৎস। এছাড়াও লিন্ডা এম ক্লিমেন্ট রচিত গ্যাব্রিয়েল রয়; ক্রিয়েশান অ্যান্ড মেমরি’, আন্ত্রে ভানাসি রচিত গ্যাব্রিয়েল রয়: অ্যা পাশন ফর রাইটিংপ্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর জীবনকে আলোকপাত করে রচিত। অধিকন্তু In Translation: The Gabrielle Roy- Joyce Marshall Correspondence’  বা ‘Intimate Strangers The Letters of Margaret Laurence & Gabrielle Roy’ অথবা বড়ো বোনকে নিয়ে লেখা ‘Letters to Bernadette’ গ্যাব্রিয়েলের সংযোগের ঠিক-ঠিকানা। তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘The Limits of Sympathy: Gabrielle Roy`s The Tin Flute’ (1993), ‘The Literary Achievement of Gabrielle Roy’ (1983), ‘The Literary Vision of Gabrielle Roy: an analysis of her works’ (1984), ‘The Play of Language and Spectacle: a structural reading of selected texts by Gabrielle Roy’ (1985), ‘Between Languages and Cultures: colonial and post colonial readings of Gabrielle Roy’ (2009)|

সহায়ক গ্রন্থ:

1. Enchantment and Sorrow: The Autobiography of Gabrielle Roy, Eng Translation: Patricia Claxton, Lester & Orpen Dennys Limited, Toronto, 1987.

2. Gabrielle Roy: A Life, Francois Richard, Eng Translation: Patricia Claxton, McClelland & Stewart Inc, Toronto, 1999.                                             

                                         

টরন্টো, কানাডা


[email protected] Weekly Bengali Times

-->