
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে পেপার স্প্রে বৈধ করার দাবিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রদেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ডগ ডাউনি ফেডারেল সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার তিনি ফেডারেল বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার-এর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
ডাউনির যুক্তি অনুযায়ী, বর্তমানে অপরাধের ঝুঁকি ও জননিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আইন মেনে চলা নাগরিকদের হাতে একটি কার্যকর আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া জরুরি। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, পেপার স্প্রে বৈধ করা হলে বিপন্ন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।
বর্তমানে কানাডার ফৌজদারি আইনে মানুষের বিরুদ্ধে পেপার স্প্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ। এটি “প্রহিবিটেড উইপন” বা নিষিদ্ধ অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেও এটি বহন বা ব্যবহার করা আইনগত ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তবে এই প্রস্তাব নতুন নয়। এর আগে ২০২১ সালে আলবার্টা প্রদেশও একই ধরনের দাবি তুলেছিল। সে সময় ফেডারেল সরকার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের যুক্তি ছিল, যেসব অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা একটি নির্দিষ্ট কারণেই করা হয়েছে এগুলো সহজলভ্য হলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
ফেডারেল সরকারের অবস্থান ছিল স্পষ্ট: অপরাধ মোকাবিলার সমাধান হিসেবে নিষিদ্ধ অস্ত্রের অনুমোদন কোনো কার্যকর পথ নয়। বরং এটি জননিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। বর্তমান প্রস্তাবের বিষয়ে বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজারের মতামত জানতে সংবাদমাধ্যম যোগাযোগ করলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
চিঠিতে ডগ ডাউনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। তিনি যৌন অপরাধে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আহ্বান জানান। তার মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং বিপজ্জনক অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি খালাস পান বা অপরাধ প্রমাণিত না হয়, তাহলে তার ডিএনএ নমুনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংস করে দেওয়া উচিত।
এই পুরো বিষয়টি এখন একটি বড় নীতিগত প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার কতটা বিস্তৃত হওয়া উচিত, এবং কোথায় গিয়ে তা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। একদিকে, অন্টারিও সরকারের দাবি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করা; অন্যদিকে, ফেডারেল সরকারের পূর্ববর্তী অবস্থান বলছে, অস্ত্র সহজলভ্য করা কখনোই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা বাড়ায় না।
ফলে পেপার স্প্রে বৈধকরণ নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে কানাডার আইন ও জননিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

