
গত চারদিন একদম চার রকম ভিন্ন প্রকৃতি। প্রথম দিন কেটে গেলো কুয়াশার চাদরে ঢাকা দুই রাত একদিন। এমন ঘন কুয়াশা ছিল দুই হাত দূরে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। অকারণ মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর কোথাও কেউ নেই পথ হারিয়ে ফেলেছি মেঘের অরণ্যে।
এর পর শুরু হলো ঝমঝম বৃষ্টি দিন। আষাঢ় মাসে যেমন বৃষ্টি হয় এই বৃষ্টি তাকেও হার মানায়। এমন সারাদিন রাত্রী ব্যাপী বৃষ্টি সাধারনত হয় না। যখন প্রথম এদেশে এসেছিলাম খুব ইচ্ছ হতো বৃষ্টিতে ভিজার। এটা খুব আনন্দের একটা ব্যাপার ছিল দেশে থাকতে। কিন্তু হাইরাইজ এ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিচে নামাতে নামতে বৃষ্টি শেষ হয়ে যেত। দশ মিনিট বৃষ্টি হলেই মনে হতো অনেক সময় বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এখন দিন রাত চেরাপুঞ্চির বৃষ্টির মতন বৃষ্টি হয় এখানে। আবহাওয়ার পরিবর্তন নিজের মতন হয়ে চলেছে।
রাতের বেলা এমন বজ্র বিদ্যুতের গর্জন আর আলোকপাত চমকে দিচ্ছিল বারে বারে ঘুমের মাঝে। একটু উত্তাপে গলে যাওয়া জল রাতের বেলা বরফ হয়ে জড়িয়ে ধরল গাছ, গাড়ি, ঘর সব কিছু। অদ্ভুত সুন্দর ক্রিস্টাল ঢাকা সব কিছু। আবার সকাল হতেই শুনতে পাচ্ছিলাম ঠাস ঠাস শব্দ, না গোলাগুলি হচ্ছে না। হালকা উত্তাপে ক্রিষ্টাল বরফ গাছের ডাল থেকে খুলে শিলাবৃষ্টির মতন ঝরে পরছে। গাড়িটা ঘরের কাছেই পার্ক করে রেখেছিলাম। এমন শক্ত বরফের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তাই সরিয়ে রাখতে হলো।

বৃষ্টি থামার পর শুরু হলো প্রলঙ্করি বাতাস। সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে যাবে মনে হচ্ছে। বাইরে বেরিয়ে ছিলাম মনে হলো গাড়িসহ আমাকে উড়িয়ে ফেলবে এমন শক্তিশালী বাতাস।
ঘরের কার্ণিশে প্রচণ্ড শব্দ। মাঝে মাঝে এক অদ্ভুত ধরনের মানুষের কান্নার মতন শব্দ হচ্ছে। এই ক্ন্নাাটা এখানে আসার পর প্রথম যখন শুনেছিলাম খুব অস্বস্থি হতো আমার। বাতাস এমন করে কাঁদছে কেন এই প্রশ্নটাই মনে আসত।
বাতাসের সাথেই শুরু হলো আবার তুষারপাত। একদম পরিস্কার হয়ে যাওয়া আগের বরফ একদিনের উত্তাপে যা গলে গিয়েছিল সবজায়গা আবার ঢাকা পরে গেলো গতকালের অবিরাম তুষারপাতে।
আর আজ চকচক করছে রোদের আলোয় চারপাশ। বাইরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখে অন্ধকার দেখছি উজ্জ্বলতায়।
কাঠবেড়ালি দৌড়াদৌড়ি করছে চারপাশে। সঙ্গীর সাথে ভাব ভালোবাসার সময় এখন। অনেকদিন গর্তে লুকিয়ে ছিল এখন আনন্দ করার সময় তাদের। গভীর রাতে সেদিন ঘরের পাশদিয়ে যেতে দেখলাম একটা পুসামকে। এই নিয়ে দুবার দেখলাম এই প্রাণী। গত বছর একবার দেখেছিলাম ইঁদুরের মতন বড় এই প্রাণী। তখন গুগোল সার্চ করে নাম জেনেছিলাম।
কতরকমের প্রাণী আছে সবার নামও জানি না। নতুন এই প্রাণীটির এদিকে আসার কারণও নিশ্চয় জলবায়ুর কোন ভিন্নতা।
টরন্টো, কানাডা

