
অন্টারিও প্রদেশে আসন্ন মিউনিসিপাল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে স্কুল বোর্ড ট্রাস্টিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় রাজনৈতিক মহল ও শিক্ষা খাতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েও প্রিমিয়ার ফোর্ড সরাসরি কোনো উত্তর দিতে চাননি। বিশেষ করে, ভোটাররা যখন মিউনিসিপাল নির্বাচনে অংশ নেবেন, তখন ব্যালটে স্কুল বোর্ড ট্রাস্টিদের নাম থাকবে কিনা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে খুব শিগগিরই আমরা একটি পরিষ্কার উত্তর পাব।” তবে তাঁর এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে পরিষ্কার করার বদলে আরও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।
এদিকে, ফোর্ড সরকার ট্রাস্টি পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করার দিকে এগোচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবেও তিনি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখেন। তিনি জানান, “এই মুহূর্তে আমি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। সবকিছুই আলোচনার মধ্যে রয়েছে।”
একজন সাবেক ট্রাস্টি ডায়ানা পলভিক বেঙ্গলি টাইমসকে বলেন, বর্তমানে অন্টারিওর আটটি স্কুল বোর্ড প্রাদেশিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আর্থিক অব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং অপচয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা এসব বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড (টিডিএসবি)ও রয়েছে, যা এই সংকটকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।
স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্টে বসবাসরত একজন অভিভাবক অমিত বড়ুয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে একটি নতুন আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে স্কুল বোর্ডগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ করা হয়েছে। এই আইনের ফলে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, এমনকি নির্বাচিত ট্রাস্টি ব্যবস্থাও বাতিল হতে পারে।
সরকারের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো “প্রক্রিয়াধীন” এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সুপারিশ প্রিমিয়ারের কাছে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, শিগগিরই বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব প্রিমিয়ারের সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষা খাতের অংশীজনদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠন মনে করছে, নির্বাচিত ট্রাস্টিদের ভূমিকা কমিয়ে দেওয়া বা বাতিল করা হলে স্কুল ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, অন্টারিওর শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিললেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো প্রদেশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মিউনিসিপাল নির্বাচন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

