খয়রাতি খেজুর

খয়রাতি খেজুর - the Bengali Times
মধ‍্যপ্রাচ‍্য থেকে খয়রাতি খেজুর দুম্বার মাংস এসব এখনো আসা মানেই হলো দেশে প্রচুর দরিদ্র মানুষ রয়েছে

মধ‍্যপ্রাচ‍্য থেকে খয়রাতি খেজুর, দুম্বার মাংস এসব এখনো আসা মানেই হলো দেশে প্রচুর দরিদ্র মানুষ রয়েছে। তাদের জন‍্যেই এসব পাঠানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এইসব খয়রাতি জিনিস প্রকৃত পক্ষেই কয়জন হত দরিদ্র মানুষের হাতে পৌঁছে? একই প্রশ্ন ফ‍্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রেও।

নানান সরকারের আমলে হত দরিদ্র মানুষের সাহায্যের নামে একদিকে যেমন প্রচুর বিদেশী সাহায্য আনা হয়, অন‍্যদিকে সরকারও নানা কর্মসূচির মাধ‍্যমে তাদের ঘরে সেইসব বিদেশী সাহায‍্যের পাশাপাশি সরকারী টাকা পয়সাও দেবার প্রচেষ্টা চলে। স্বাধীনতার পর বলা হতো রিলিফ এমনকি লংগরখানাও চালু করা হয়েছিল। রিলিফ সামগ্রীর মধ‍্যে চাউল, গম, দুধ, বিস্কুটসহ পরনের কাপড় এমনকি ছেলেদের শার্ট ও প‍্যান্টের খাকি ও পবলিনের সাদা কাপড়ও এক সময় বন্টন করা হয়েছে।

- Advertisement -

এরপর আমরা দেখেছি ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে চাউল ও গম বিতরণ করা হতো। কাজের বিনিময়ে খাদ‍্য কর্মসুচি যা কাবিখা নামে পরিচিত ছিল সেটাও আমরা দেখেছি। এছাড়াও গুচ্ছগ্রাম, পথকলি, মোবাইলের মাধ‍্যমে টাকা পাঠানো, একটি খামার একটি বাড়ি ইত‍্যাদি নানা প্রকল্প আমরা দেখেছি যার মুল উদ্দেশ্য ছিল লক্ষ কোটি দুঃস্হ ও দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারী সহায়তা পৌঁছে দেয়া। কিন্তু প্রত‍্যেকটা কর্মসুচিই ছিল কমবেশী দুর্নীতিতে ভরপুর।

মুল কারণ প্রকৃত দুঃস্হদের তালিকা করায় স্বজনপ্রীতি এবং বন্টনে ব‍্যর্থতা। বেশীরভাগ সময়ে দেখা গেছে দলীয় লোকজনকে তালিকা ও বন্টনে জড়িত করার কারণে নিজেদের মধ‍্যে ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের মধ‍্যে এসব ভাগ করে নেয়া হতো। এমনকি যখন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে এসব তালিকা ও বন্টন করা হতো তখনো প্রচুর দুর্নীতি হতো। ত্রিশ কেজি চাউল দেবার কথা থাকলেও দেয়া হতো ১৫/২০ কেজি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ‍্যামিলি কার্ড বা হাসনাত আব্দুল্লাহর মধ‍্যরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নামে খেজুর বন্টন বা রাস্তাঘাটের যে তালিকার বা অবস্হার অনলাইন বর্ণনা আমরা যা দেখলাম তা প্রশংসার যোগ‍্য হলেও এটাকে জবাবদিহিতা বলা যাবে না।

জবাবদিহিতা হলো সেটা যেখানে তালিকা, বন্টন ও অন‍্যায় হলে শাস্তির ব‍্যবস্হা থাকবে এবং তা জনগণ জানতে পারবে। অর্থাৎ বাপের উপর বাপ আছে, অন‍্যায় করলে বা গরমিল করলে কেউ না কেউ দেখবে সেই ব‍্যবস্হার নাম জবাবদিহিতা। একা তারেক রহমান বা হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। যেমন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী একসময় হেলিকপ্টারে করে কেন্দ্রে গিয়ে নকল ধরতেন। এসব করে সাময়িক বাহবা পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে সমাজ বা দেশ লাভবান হয় না।

দীর্ঘমেয়াদে বা টেকসই জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তা করতে হবে। সে কারণেই সংসদে সংস্কার প্রস্তাব পাস করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের প্রভাবমুক্ত বা নির্ভরশীলতামুক্ত করতে হবে। মন্ত্রীকে দৌড়ে দৌড়ে দেশের প্রতিটি জায়গায় গিয়ে দেখার দরকার হবে না, সবকিছুই হবে চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে। দোষ করলে শাস্তি হবে। কারো তদবীরে বা হুমকিতে দুঃস্হদের তালিকা হবে না। দলীয় লোকজনকে কোনভাবেই এসব কাজে জড়ানো যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে কাজ ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার বা মেয়র কমিশনারের সে কাজ এমপি সাহেবের করতে হবে কেন?

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles