
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর আসন্ন মিউনিসিপাল নির্বাচনে সাবেক মেয়র জন টরি প্রার্থী হচ্ছেন না। মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি জানান, আসন্ন মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে।
দীর্ঘ এক বিবৃতিতে জন টরি বলেন, টরন্টোর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মানের বিষয় ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, মেয়রের কার্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং এটি কোনো ব্যক্তির চেয়েও বড়। তিনি আরো জানান যে, মেয়রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি শুধু প্রশাসনিক কাজই করেন না, বরং এই প্রতিষ্ঠানের সততা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়।
টরি আরও বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ বিবেচনায় মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখনও অনেকেই তাকে দায়িত্বে থাকার জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক কর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করার পর মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ৭১ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। ওই সময় তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক মাস পার করেছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি পদত্যাগ করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
বিবৃতিতে টরি বলেন, “আমি কাউকে আমার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে বলছি না। পদত্যাগের মাধ্যমে আমি নিজেকে জবাবদিহিতার আওতায় এনেছি। আমি জানি রাজনীতি খুব কঠিন একটি ক্ষেত্র, অনেক সময় তা নির্মমও হয়ে ওঠে। আমি শুধু মানুষের বোঝাপড়াটুকু আশা করি।” এক সাক্ষাৎকারে টরি জানান, তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবারের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিবারই তাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে সাহায্য করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউ এখনও ঘোষণা দেননি যে তিনি আগামী মেয়র নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন কি না। সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপের ১০০ দিন বাকি উদ্যাপন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
টরন্টোর একটি নাইটক্লাবে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মেয়র অলিভিয়া চাউ বলেন, শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তাদের জীবনকে আরও সাশ্রয়ী করে তুলতে তিনি বর্তমানে কঠোর পরিশ্রম করছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য টরন্টো শহরকে প্রস্তুত করার কাজও জোরদারভাবে চলছে।
অন্যদিকে জন টরির ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে অলিভিয়া চাউ তার পূর্বসূরীর দীর্ঘ জনসেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জন টরি বহু বছর ধরে টরন্টোর মানুষের জন্য কাজ করেছেন। শহরের উন্নয়নে তার অবদান আমরা স্মরণ করি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জন টরির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত টরন্টোর আগামী মেয়র নির্বাচনকে আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন শহরের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করা এই নেতার অনুপস্থিতি নতুন প্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

