ক্যানাডাতে বসতী স্থাপনের ৩২ বছর

ক্যানাডাতে বসতী স্থাপনের ৩২ বছর - the Bengali Times
৩২ বছর আগে এ তারিখে আমরা সিঙ্গাপুর ত্যাগ করে দুই সন্তান নিয়ে ক্যানাডার টরন্টোতে এসে বসতি স্থাপন করেছিলাম

১৯৯৪ সালের ৪ঠা মার্চ। ৩২ বছর আগে এ তারিখে আমরা সিঙ্গাপুর ত্যাগ করে দুই সন্তান নিয়ে ক্যানাডার টরন্টোতে এসে বসতি স্থাপন করেছিলাম। আজ ৩২ বছর পূর্ণ হোল এ দেশে বসতি স্থাপনের। যে দেশটি আমাকে কয়েক ঘণ্টার ভিতর একটা সিনিয়র অধ্যাপকের চাকুরী দিয়েছিল, মাত্র ছয় মাসের মাথায় সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহনের আমন্ত্রন জানিয়েছিল সে দেশটি ছেড়ে আসা খুব একটা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তদুপরি বয়সের মধ্য চল্লিশে কোন নতুন দেশে এসে বসতি স্থাপন খুব একটা সহজ কাজ নয়।

সে সময়ে ক্যানাডা সহ পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতি ছিল ভয়াবহ। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদি আমি আসার আগে একটা চাকরী পাই তাহলেই আসবো। সে অবস্থা পুরন হওয়ার পর (যদিও সিঙ্গাপুরে অধ্যাপকদের বেতন এখানকার তুলনায় অনেক বেশী) আর না আসার পর কোন কারন পাওয়া গেল না। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল থেকে ডক্টরেট করার পর আমার যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া যে ঠিক হয়নি সেটা ক্যানাডাতে এসে বসতি স্থাপন করে আমি নিজেই প্রমান করলাম।

- Advertisement -

আমার জীবনে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে চেয়েছি, কারো আদেশে নয়। সিঙ্গাপুর যখন ছেড়ে আসি তখন আমার ছাত্ররা বিদায় সম্বর্ধনার প্লাকে লিখেছিল, “Your departure is a loss to our country”.

কতবড় পদে আমি আছি তার থেকে বড় আমি যে পদে আছি সেখান থেকে আমার ছাত্রদের জীবন গঠনে কটটুকু অবদান রাখতে পেরেছি সেটাই আমার শিক্ষকতা জীবনের প্রধান প্রতিপাদ্য। একমাত্র ভবিষ্যতের ইতিহাস বিচার করবে সে ব্রতে আমি কতটুক সফলকাম হয়েছি। আমাকে নিয়ে লেখা বইএর দ্বিতীয় সংস্করনে একজন গ্র্যাজুয়েট লিখেছেঃ

আমি সবসময় আমার বন্ধুদের কাছে একটি আফসোসের কথা বলি—আমি কখনো ভারতের মিসাইলম্যান এবং আমাদের প্রিয় রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে. আবদুল কালামের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাইনি, আর এখন তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু কানাডায় আসার পর শেরিডানে ড. মোজাম্মেল খানের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমার মনে হয়েছে যেন আমার সেই অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।

 

আমি তাঁর মধ্যে এ.পি.জে. আবদুল কালামের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছি, তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে। তিনি একজন মহান মানুষ এবং নিঃসন্দেহে আমার শিক্ষাজীবনে পাওয়া অন্যতম সেরা অধ্যাপক। তিনি যেভাবে পড়ান এবং সময়ের সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান দিয়ে গণিতের কঠিন বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝিয়ে দেন, তা সত্যিই অসাধারণ।

আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তাঁদের কারণেই আমি শেরিডানে পড়তে এসেছি এবং এমন একজন মহান ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষদের একজন মনে করি, কারণ আমি এমন একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছি, যিনি বহু শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিয়েছেন।

আমরা সবসময় আপনাকে ভালোবাসি। আমার শিক্ষাজীবনে আপনার মতো সেরা অধ্যাপক আর কাউকে পাইনি।

একজন  শিক্ষকের জন্য একে আমি এক পরম পাওয়া বলে মনে করি। আমার দুই সন্তানের কাছে আমি কৃতজ্ঞ সিঙ্গাপুর থেকে এদেশে আসার সিদ্ধান্তকে ওরা কোনদিনও প্রতিবাদ করেনি। সর্বশক্তিমানের ইচ্ছায় ওরা দুজনই ওদের দুজনই এদেশে সুন্দর জীবন যাপন করছে।

 

ম্যাল্টন, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles