
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে কানাডায় সতর্ক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। শ্রমিক নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তারা একে হোয়াইট হাউসের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করলেও তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে কানাডিয়ান শিল্পের ওপর চলমান বাণিজ্যিক চাপ পুরোপুরি দূর হবে না।
শুক্রবার প্রকাশিত সুপ্রিমকোর্টের রায়ে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট প্রেসিডেন্টকে বৃহৎ পরিসরে অর্থনৈতিক জরুরি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এই সিদ্ধান্তের পর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিশ্লেষক এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনের ওই শুল্ক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
যদিও এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের একটি আইনি পথ বন্ধ হয়ে গেছে, কানাডার কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ এখনো সমাধান থেকে অনেক দূরে।
এই রায়ের মাধ্যমে আইইইপিএ শুল্কের পেছনে থাকা আইনগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কানাডিয়ান কর্মীদের এটিকে কোনো বড় মোড় ঘোরানো ঘটনা বা চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এই শুল্ক নীতিগুলো শুধু আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধই ছিল না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা কানাডিয়ান শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠেছিল। তিনি আরও বলেন, যদি ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কোনো উপায়ে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে অথবা কানাডার চাকরি ও বিনিয়োগকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও একই ধরনের সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, সীমান্তবর্তী বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব এখনো শেষ হয়নি।
ফোর্ডের ভাষায়, “ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হলেও লড়াই এখানেই শেষ নয়। হোয়াইট হাউস ভবিষ্যতে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা আমাদের নজরে রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, গাড়ি শিল্প, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং বনজ সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরোপিত শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে এবং এসব খাতের শ্রমিকরা এর প্রভাব ভোগ করছেন।
এদিকে সিআইবিসির প্রধান অর্থনীতিবিদ আভেরি শেনফেল্ড জানিয়েছেন, আদালতের এই রায় কানাডিয়ান রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে অতিরিক্ত শুল্কের চাপের মুখে পড়ছিলেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি সাময়িকভাবে কিছুটা সহজ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সিইউএসএমএ থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে আশঙ্কা ছিল, আদালতের এই সিদ্ধান্ত সেই ঝুঁকিও আপাতত কমিয়ে দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

