
গতরাতে গিয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম কানাডার বর্তমান সভাপতি রোকেয়া সুলতানার নুতন বাসায়, হাউস ওয়ার্মিং পার্টি বলা চলে। চমৎকার নান্দনিক ডিজাইনে নিজেরাই বাড়িটির প্লানিং ও ডিজাইনিং উনারা স্বামী স্ত্রী মিলে করেছেন বলে জানতে পারলাম। রোকেয়ার হাসবেন্ড মুন ভাই একজন নামকরা প্রকৌশলী ও বিল্ডার। অভিনন্দন রোকেয়া সুলতানা ও পরিবার।
তবে বাঙালী যেখানে যাবেন সেখানে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হবে না তা কি হয়? নানান ধরনের আলোচনার এক পর্যায়ে একজন প্রশ্ন করলেন নুতন সরকারকে কিভাবে ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব?
মুলত কাজটা অসম্ভব বলেই মনে হবে। কারণ বাংলাদেশের মত অগনতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে যিনি ঢুকবে তিনিই স্বৈরাচার হতে বাধ্য হবেন। ক্ষমতা এতটাই কেন্দ্রীভূত থাকে এবং কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার চারপাশে যেসব চাটুকার লোকজন মুল নেতৃত্বকে ঘিরে রাখেন সেখানে স্বৈরতন্ত্র কায়েম না হয়ে কোন উপায়ই থাকে না। কাজেই ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার না হতে চাইলে একমাত্র উপায় হলো জাপান, বৃটেন, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়ার দেশগুলোর মত সরকারকে জনমত বিরুদ্ধে গেলেই পদত্যাগ করে নুতন নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। এই বিষয়ে সবচেয়ে ভাল উদাহরণের দেশ হলো জাপান। কারণ মনে রাখতে হবে, রাজনীতি, দেশসেবা সবকিছুই জনগণের জন্যে। জনগণ চাইলে সরকার চালাবেন, না চাইলে পদত্যাগ করে নুতন করে ম্যান্ডেট নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে, কোনরকম দ্বিধা বা ইতস্তত করা যাবে না।
এই যে বললাম, জনগণ যে চায় না, তা কিভাবে বুঝা যাবে? অনেকের ধারণা পাঁচ বছর অপেক্ষা করে নুতন আরো একটা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে জনগণের মত জানার জন্যে। এটা ভুল ধারণা। জনগণ পাঁচ বছরের আগেও আপনার কার্যক্রম দেখে আপনাকে আর নাও চাইতে পারেন। সেগুলো জানার নানা ধরণের টুলস আছে। প্রকৃত গনতন্ত্রের দেশগুলো সেই টুলস ব্যবহার করে যদি দেখেন মানুষ তাদের উপর বিরক্ত, তাহলে তারা সরে যান এবং নুতন নির্বাচন দিয়ে নুতন করে ম্যান্ডেট নিয়ে হয় সরকার পরিচালনা কন্টিনিউ করেন অথবা পরাজিত হলে নুতন বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা দিয়ে সরে যান। একমাত্র এই ধারা প্রাকটিস শুরু হলে একদিকে যেমন নিজেকে ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরশাসক হওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে অন্যদিকে নিজ দলের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের মুখে ছাই তুলে দেয়া সম্ভব হবে।

