কানাডার জীবনে বিডি

কানাডার জীবনে বিডি - the Bengali Times
কানাডার জীবনে বিডি

“জামাই একটু মোটা”

“জামাই মোটা হলে সমস্যা কী?

- Advertisement -

“নাস্তা দিলো আমাদের জন্য, খাইলো সে”

“আদনান সামী, আদানীর ছেলে কি দেখতে খারাপ? মেয়েরা সব পাগল। আর কোনো অবজেকশন?”

“ছেলের বাপ বসে বসে খায়”

“বিয়ে ছেলেকে করবে না, শ্বশুরকে?”

“খুব কিপটা রে..”

“আসল কথা বল; তোর হাতে বাইন্ধে কিছু দেয়নি..”

“হরভজন সিং মসজিদে যাবে মানে?”

এরই মধ্যে গিন্নীর ফোন। আমি ‘একটু আসতেছি’ বলে গাড়ি থেকে বের হয়ে আড়ালে গিয়ে বললাম, “হ্যালো!” “তোমার ড্রাইভিং পরীক্ষা কেমন হলো?”

“এই ঠান্ডার মধ্যে আর যাইনি..”

“মেয়ে দেখতে আসছি তো”

“কার জন্য? কোথায়!”

“চিশতীর ভাগ্নীর জন্য, টাক্সিডো কোর্টে”

“তুমি আসলে গেছোই বিয়ের বিষয়ে..”

.

বন্ধুর মেজাজ ভয়ংকর খারাপ। ঘটক এখনো ফোন ধরেনি। কোনো ছেলে তার পছন্দ হয়নি। আমি নাকি অপয়া। অটোয়া ফেরা দরকার। তাকে বলতে ভয় পাচ্ছি। আমার ভ্যাকেশন, সিক লিভ, স্পেশাল লিভ; সব ধুয়ে মুছে শেষ। অফিস না গেলে কাল থেকে বেতন কাটা শুরু করবে।

.

কপালে থাকলে যা হয়।

বাইরে মাইনাস তেরো, বাতাসের কারনে মাইনাস উনিশ। আমার সামনে কমসেকম একশো জনের লম্বা লাইন। পেছনে শ’দুয়েক লোক দেখে মনে সাহস পেলাম। ঠান্ডায় হাত, কান, নাক, ঠোঁট অবশ।

তার অবশ্য অনেক দয়া।

খিদে লাগবে জেনে এক্স্ট্রা লার্জ কফি, সাথে দুটা ডোনাট কিনে দিয়ে গেছে। মল খুলতে এখনো দুই ঘন্টা বাকি। আমার লাইনের আগে পিছে দু’জন সুপার স্মার্ট লোক ব্যাকপ্যাক থেকে স্লিপিং কম্বল বের করে মুড়ি দিয়ে নাক ডেকে ঘুমিয়ে গেল। ঘুমানোর আগে আমাকে বারবার অনুরোধ করলো মল খুললে যেন ডাকি।

ঠান্ডা কমাতে পুরা মগ কফি খেয়ে পড়লাম মহা বিপদে। তলপেটে প্রচন্ড চাপ দিচ্ছে। লাইন থেকে বের হওয়া রিস্কি। চারদিকে চকচকে এলইডি লাইটের  আলো, ঝোপঝাড়ে যাবার উপায় নাই। মল খুলতে আরও ঘন্টাখানেক দেরি।

বিপদ যখন আসে, ছোট-বড়ো সব একসাথে নিয়েই আসে। শুধু তলপেটে নয়, তলপিঠেও বড়ো চাপ এসে জড়ো হয়েছে। আশার আলো জাগলো আধা কিলোমিটার দূরে টিম হর্টনস এর লাল আলো জ্বলতে দেখে। কফি শপ মানেই বাথরুম।

জান বাঁচানো ফরজ। সামনের চাইনিজটাকে ঝাঁকিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বললাম, “ব্রাদার, আই এম কামিং উইদিন টুয়েন্টি মিনিট’স”

“ওকে ওকে, নো প্রবলেম।”

হাঁটা ধরলাম কফি শপের দিকে।

আধা ঘন্টার মধ্যে কফি হাতে আবার ফিরে এসে দেখি সিনারী চেঞ্জ্ড। লাইন পিঁপড়ার মতো মলের মধ্যে ঢুকছে। আমি পাগলের মতো একবার পূব, একবার পশ্চিম দিকে দৌড়াতে থাকি। চাইনিজটা বা আমার পেছনের ফিলিপিনো; কোথাও কেউ নেই..

কিছু দূরে দেখি মোবাইল কানে ধরে বন্ধু আমার দিকে চিন্তিত মুখে ছুটে আসছে!

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles