
প্রদেশের আবাসন খাতে আস্থা ফেরাতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে রিয়েল এস্টেট কাউন্সিল অব অন্টারিওর (আরইসিও) ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে ফোর্ড সরকার। সাম্প্রতিক আইপ্রো রিয়েলটি কেলেঙ্কারির পর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রাদেশিক সরকার।
সরকারের পাবলিক অ্যান্ড বিজনেস সার্ভিস ডেলিভারি ও প্রকিউরমেন্ট মন্ত্রী স্টিফেন ক্রফোর্ড আরইসিওর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ার কেটি স্টেইনফেলডকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন একটি স্বাধীন নিরীক্ষার রিপোর্টে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ চর্চা, প্রক্রিয়া এবং কাজ পরিচালনায় বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছে। ডেন্টন্স কানাডা এলএলপি পরিচালিত ওই নিরীক্ষায় আরইসিওর সাংগঠনিক কাঠামো, স্বচ্ছতা এবং ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষমতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মন্ত্রী ক্রফোর্ড চিঠিতে উল্লেখ করেন, আইপ্রো রিয়েলটি কেলেঙ্কারির সময়ে আরইসিওর প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্টতই অপ্রতুল। এর ফলে বাজারে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আবাসন খাতের অংশীজনেরা আস্থা হারায়। তিনি আরও বলেন, “নিয়ন্ত্রকের ওপর জনআস্থা ও বাজারের আস্থা ফিরে আনার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী পদক্ষেপ। আরইসিও বর্তমান অবস্থায় ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম কি না সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।”
এই পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রী জানান, সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ ও দৈনন্দিন সিদ্ধান্তগ্রহণের দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়াই এখন জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ জনগণ ও ভোক্তাদের সম্ভাব্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে এবং সংস্থাটির প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
২০২৩ সালের আগস্টে আইপ্রো রিয়েলটি হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় অন্টারিওর রিয়েল এস্টেট বাজারে। এরপরই আরইসিও ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর তদন্ত ও নিরীক্ষা শুরু করে।
চলতি বছরের ১৯ মে প্রকাশিত তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে ভয়াবহ অনিয়ম। সেখানে বলা হয়, আইপ্রো রিয়েলটির সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৮০ লাখ ডলার তুলে নেন। এই অর্থ বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্ট এবং রিয়েলটর কমিশন প্রদানের জন্য জমা ছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় ও বিনিয়োগকারীদের কাছে অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজে যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ভোক্তার অর্থের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আরইসিও কীভাবে এমন গুরুতর আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলো এবং কেন তাদের প্রতিক্রিয়া এত বিলম্বিত ছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় সংস্থার পর্যবেক্ষণ ও তদারকি পদ্ধতি দুর্বল, অভিযোগ ও সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রটোকলের অভাব, ভোক্তা সুরক্ষায় যথেষ্ট জোর না দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতি।
এই কারণেই সরকার মনে করছে যে সংস্থাটির শীর্ষে সরাসরি একজন প্রশাসক বসানো ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
মন্ত্রী ক্রফোর্ডের চিঠির পর ধারণা করা হচ্ছে, সরকার দ্রুতই প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রাদেশিক সরকারের এই কড়াকড়ি পদক্ষেপ রিয়েল এস্টেট বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থাগুলো সরকারের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে আবাসন বাজারে নানা ধরণের অনিয়ম সামনে আসায় শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

