
কানাডার সঙ্গে আলবার্টার অবস্থান বজায় রাখার দাবিতে গৃহীত ‘আলবার্টা ফরএভার কানাডা’ পিটিশনের চূড়ান্ত স্বাক্ষর যাচাই শুরু হওয়ায় ইলেকশন্স আলবার্টার অফিসের বাইরে মঙ্গলবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। পিটিশনটির উদ্যোক্তা এবং প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ পার্টির সাবেক ডেপুটি প্রিমিয়ার থমাস লুকাজুক এক বিবৃতিতে জানান, প্রদেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পেয়ে স্বাক্ষরের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে।
লুকাজুক জানান, আলবার্টার জনগণ কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে কি না এই প্রশ্নে গণভোটের দিকে যেতে মোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৮টি স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছে। যা ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বেশি।
তিনি বলেন, “আলবার্টাবাসী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদ চান না। আমাদের প্রিমিয়ারকে তাঁরা সঠিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। যখন উদ্যোগটি শুরু করেছিলাম, তখন আমার লক্ষ্য ছিল কেবল স্বাক্ষরের নির্ধারিত সংখ্যাটি অর্জন করা। কিন্তু এটি যে একটি আন্দোলনে রূপ নেবে, তা আমি কল্পনাও করিনি।”
লুকাজুক আরও বলেন, তিনি প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন যেন প্রদেশের এমএলএদের এই ইস্যুতে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে “বিচ্ছিন্নতাবাদের আলোচনাকে চিরদিনের জন্য সমাপ্ত করা যায়।” তাঁর মতে, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ যখন স্পষ্ট মতামত জানাচ্ছেন, তখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানানো।
চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার গর্ডন ম্যাকক্লিউর ৩০ জুলাই পিটিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্যু করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, লুকাজুকের হাতে ছিল ৯০ দিন যে সময়ে তাঁকে অন্তত ২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭৬টি বৈধ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হতো। নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার আগেই পিটিশনটি ইলেকশন্স আলবার্টার কাছে জমা দেওয়া হয়।
এখন নির্বাচনী কর্মকর্তারা স্বাক্ষরগুলোর বৈধতা যাচাই-বাছাই করছেন, যার জন্য তারা মোট ৬০ দিন সময় পাবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দৈবচয়নের ভিত্তিতে স্বাক্ষরের নমুনা বেছে নিয়ে পরীক্ষা করবেন স্বাক্ষরদাতা সত্যিই আলবার্টার বাসিন্দা কি না তা নিশ্চিত করতে প্রথমে রেকর্ড যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজন হলে স্বাক্ষরদাতাকে ফোনেও যোগাযোগ করা হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়া ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। পিটিশনের চূড়ান্ত ফলাফল ৬ জানুয়ারির মধ্যে প্রকাশ হওয়ার কথা।
পিটিশনটিকে কেন্দ্র করে আলবার্টায় রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রদেশের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে জোরালো হলেও বিপুল সংখ্যক স্বাক্ষরের মাধ্যমে মূলধারার জনমত যে এর বিপরীতে তা স্পষ্ট বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
লুকাজুকের উদ্যোগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ আলবার্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ফেডারেল সম্পর্ক নিয়ে নতুন ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি ইলেকশন্স আলবার্টার চূড়ান্ত যাচাইয়ের দিকে।

