
চার মাসের ধারাবাহিক উত্থানের পর আবারও মন্থর হয়ে পড়েছে কানাডার আবাসন বাজার। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশন–এর সাম্প্রতিক উপাত্তে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে দেশের সামগ্রিক আবাসন বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
যদিও ২০২১ সালের পর এবারের সেপ্টেম্বর ছিল বিক্রয়ের দিক থেকে অন্যতম শক্তিশালী মাস, তবুও বাজারে হালকা শীতলতার ইঙ্গিত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সিআরইএর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ শন ক্যাথকার্ট বলেন, সেপ্টেম্বর এখনো একটি ভালো মাস হিসেবে বিবেচিত হবে, তবে আগের কয়েক মাসের তুলনায় বাজারের গতি কিছুটা কমেছে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে সেপ্টেম্বরে বাড়ি বিক্রি আগের মাস আগস্টের তুলনায় ১.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এপ্রিলের পর এটিই প্রথম মাস যখন কানাডার আবাসন বিক্রি কমলো। এই সার্বিক পতনের মূল কারণ পাঁচটি বড় বাজারে বিক্রি হ্রাস – গ্রেটার ভ্যানকুভার, ক্যালগেরি, এডমন্টন, অটোয়া এবং মন্ট্রিয়ল। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গ্রেটার টরন্টো এরিয়া ও উইনিপেগে, যেখানে সেপ্টেম্বরে বিক্রি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডা (RBC) জানায়, আবাসন বাজার গত কয়েক মাসে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়, বরং বেশ ভঙ্গুর। সুদের হার, ঋণ গ্রহণ ক্ষমতা ও বাজারে সরবরাহ এই তিনটি বিষয় এখনো বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে আবাসন খাতের বড় প্রতিষ্ঠান রয়্যাল লাপেজ মনে করছে, বাজারে প্রকৃত পুনরুদ্ধার দৃশ্যমান হতে আরও সময় লাগবে, এবং ২০২৬ সালেই কানাডার আবাসন বাজারের পূর্ণ ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।
সিআরইএর বার্ষিক পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছর (২০২5) দেশে মোট ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩টি বাড়ি হাতবদল হতে পারে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ১.১% কম। বছর শেষে কানাডায় বাড়ির গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৫ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১.৪% কম। সংস্থাটি জানায়, মূলত ব্রিটিশ কলাম্বিয়া এবং অন্টারিওতে মূল্যহ্রাসের কারণেই সারাদেশের গড় মূল্য নিচের দিকে নেমেছে।
সিআরইএর মতে, ২০২৬ সালে বাজারে নতুন উদ্যম দেখা যেতে পারে বাড়ি বিক্রি সম্ভাব্য সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৪৭৯টি, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৭.৭% বেশি। বাড়ির গড় মূল্য ৩.২% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াতে পারে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬২২ ডলার।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান মন্থরতা সাময়িক, যা মূলত সুদের হার ও আঞ্চলিক চাহিদার ভিন্নতার কারণে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

