জলবায়ু কার্যক্রম থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ কানাডার

জলবায়ু কার্যক্রম থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ কানাডার - the Bengali Times
পরিবেশমন্ত্রী জুলি ডাবরুসিন বলেন জলবায়ু পরিবর্তন এরই মধ্যে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে

টরন্টোতে শুরু হয়েছে প্রথম টরন্টো ক্লাইমেট অ্যাকশন সম্মেলন, যেখানে বক্তারা বলেন যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোয় তৈরি হওয়া নেতৃত্বশূন্যতার সুযোগ নিয়ে কানাডা এখন বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগে এগিয়ে যেতে পারে এবং এ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারে।

সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বেকি পার্ক-রোমানোভস্কি বলেন, “এই মুহূর্তে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব থেকে সরে গিয়ে বিরাট এক ফাঁক তৈরি করেছে। সেই শূন্যতা পূরণ করে কানাডা নিজেকে বৈশ্বিক জলবায়ু আন্দোলনের সামনের সারির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।”

- Advertisement -

কানাডার পরিবেশমন্ত্রী জুলি ডাবরুসিন সম্মেলনে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেশটির অর্থনীতিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন একটি সাম্প্রতিক গবেষণার কথা, যেখানে বলা হয়েছে চলতি বছর জলবায়ুজনিত ক্ষতির কারণে কানাডার অর্থনীতি প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার হ্রাস পেতে পারে।

তার ভাষায়, “জলবায়ু সংকট শুধু নৈতিক বাধ্যবাধকতা নয়, এটি এখন কঠোর অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতাও। তাই সরকার জলবায়ু প্রতিযোগিতা কৌশল (Climate Competitiveness Strategy) নিয়ে কাজ করছে, যাতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কানাডার শিল্প ও বিনিয়োগে নতুন পথ তৈরি হয়।”

তবে এই কৌশল কবে প্রকাশ পাবে বা কী থাকবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো হালনাগাদ তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

সরকারের এই ধীরগতির কারণে জলবায়ু কর্মী ও নীতিনির্ধারকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতির জরুরি বাস্তবতা যত দ্রুত বদলে যাচ্ছে, নীতিগত প্রস্তুতি সে গতি বজায় রাখতে পারছে না।

প্যানেল আলোচনায় কানাডিয়ান ক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট রিক স্মিথ বলেন, “আমি একদিকে আশাবাদী, কারণ দেশটির অভ্যন্তরেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। অন্যদিকে আমি অধৈর্য, কারণ আমরা যে সংকটের মধ্যে আছি, তার তুলনায় আমাদের অগ্রগতি খুবই ধীর। প্রভাব ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে ফারাক প্রতিনিয়তই বাড়ছে।”

তিনি আরও জানান, চলতি বছর কানাডায় ২.৫টি ভ্যানকুভার আইল্যান্ডের সমপরিমাণ বনভূমি দাবানলে ভস্মীভূত হয়েছে। শুধু গত বছরই বিমা কোম্পানিগুলোকে ৮৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে যা আর্থিক ঝুঁকির গভীরতা স্পষ্ট করে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি-নির্ধারণ, কার্বন বাজার, ক্লিনটেক বিনিয়োগ এবং সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কানাডার নেতৃত্বের নতুন দুয়ার খুলেছে। একদিকে হুমকি অনিয়ন্ত্রিত জলবায়ু পরিবর্তন; অন্যদিকে সুযোগ টেকসই প্রযুক্তি ও সবুজ অর্থনীতিতে বিশ্বনেতা হওয়ার সম্ভাবনা।

টরন্টো ক্লাইমেট অ্যাকশন সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তাদের মতে, যদি এই মুহূর্তে সঠিক নীতি ও দিকনির্দেশনা নেওয়া যায়, তাহলে কানাডা শুধু জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সাফল্য অর্জন করবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও উঠে আসতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles