
যে কোনো ধর্মকে অবমাননার বিষয়ে কঠোর ও সুস্পষ্ট আইনি শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ !
সাম্প্রতিক বাংলাদেশের নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র কোরান অবমাননার তীব্র নিন্দা জানাই !!
এক বন্ধুর পোস্টে বাংলাদেশের একজন ইসলাম ধর্মের বক্তার একটি লেখা দেখলাম। সেখানে জানতে পারলাম কোনো এক ব্যাক্তি পবিত্র কোরানকে খুবই নেক্কারজনকভাবে অবমাননা করেছেন, যেটি আমি এখানেও দেখি দেখি নাই।
কোনো ধর্মকেই ছোট করা, অবমাননা করা, কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা, সেখানে তার উপাসনাকালে তাকে হত্যা করা বা লাঞ্চিত করা উচিত নয় এবং এর জন্য সবাইকেই প্রতিবাদ করা উচিত, সমানবাবে।
যেমন এই ২/৩দিন আগেই ইংল্যান্ডে একটি জুইশদের সিনাগগে ঢুকে ২টি লোক মেরে ফেলেছে, আবার কয়েকবছর আগে আমি টরোন্টোর যেই মসজিদে বেশির ভাগ সময় নামাজ পড়তে যাই সেখানে একজন নিরীহ মুসল্লিকে ছুরিকাহত করে হত্যা করে এক ব্যাক্তি।
সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ বা প্রতিষ্টানে উপর হামলা, অবমাননা প্রায় দেখা যায়, তবে কারো ক্ষেত্রে কম কারো ক্ষেত্রে বেশি।
কম বেশি যাই হোক, এর কোনোটাই কাম্য নয়, এবং এর কোনো জাস্টিফিকেশন নেই।
তাই আপনাকে, আমাকে যেকোনো ধর্মের যেকোনো অবমাননাকেই ধিক্কার দিতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে এবং যারা এটা করবে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার আবেদন করতে হবে। তবে সেই বিচার/আইন আবার নিজের হাতে তুলে নিবেন না।
মনে রাখতে হবে, আমি যদি শুধুমাত্র আমার ধর্মের অবমাননা হলে মুখ খুলবো, অন্য কোনো ধর্মের অবমাননা হলে মুখ বন্ধ বা মনে মনে খুশি হবো তাহলে আমি নিজের ধর্মকে রক্ষার জন্য যত নিয়মই করি না কেন, আমার ধর্মের উপরেও ক্রমাগত আঘাত আসবে।
উক্ত ইসলামী বক্তার আবেদনের সাথে আমি একমত, তবে উনার লেখার শেষের বাক্যটিতে আমি “সব” নামক শব্দটি যুক্ত করতে চাই।
যেমন উনি লিখছেন, “সরকারের প্রতি আমাদের দাবি—অবিলম্বে ধর্মঅবমাননা বিষয়ে কঠোর ও সুস্পষ্ট আইন তৈরি করে এর বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে হবে।
নতুবা দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা নষ্টকারী ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।”
আমি বলতে চাই “অবিলম্বে সকল ধর্ম অবমাননা বিষয়ে কঠোর ও সুস্পষ্ট আইন তৈরি করে এর বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে হবে।”
By the way, এই দায়িত্বটা শুধুমাত্র সরকারের নয়, আপনার, আমার সবার। আপনি আপনার পরিবারে ছোটদেরকে নিজের ধর্মের সমস্ত শিক্ষা এবং সেগুলি পালনের শিক্ষার পাশে পাশে অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করাটাও শেখাবেন !!
এই কানাডাতে এক সময় আদি কানাডার শিশুদেরকে ধরে ধরে নিয়ে তথাকথিত “রেসিডেন্সিয়াল” ইস্কুলে নিয়ে গিয়ে তাদের নিজেদের কৃষ্টি, কালচার, ধর্ম-কর্ম সব ভুলিয়ে তৎকালীন পশ্চিমা কালচার এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি জোরপূর্বক দীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময়ে অনেক অনেক শিশু এই অত্যাচারে মৃত্যুবরণ করে। যাহোক, অবশেষে কানাডার কয়েকবছর আগে কানাডা সরকার তাদেরকে কাছে এই হীন কৃতকার্যের জন্য সরকারিভাবে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন।
যাহোক, দেরিতে হলেও এদেশের সরকার এই কাজটি করেছেন !! ধন্যবাদ সে জন্য।
আসুন সহমর্মিতার অনুশীলন একান্ত নিজের পরিবার থেকেই শুরু করি !!!

