
এত মনো মুগ্ধকর শান্ত একটি সন্ধ্যা । আকাশে গোলাপি আভা, চারপাশ নিরব নিস্তব্ধ ঝাঁকে ঝাঁকে নীলব্লু জে মাথার উপর দিয়ে, উড়ে গিয়ে বসছে দূরের রঙ্গিন হয়ে যাওয়া ম্যাপল গাছের উপরে । রোদের আলোয় গাছের পাতা আর নীল পাখি গুলো উভয়ে ঝকমক করছে ।
চুপচাপ সপ্তমীর চাঁদ পুব আকাশে, সন্ধ্যা তারা ঝলমল করছে পশ্চিম আকাশে একফোঁটা মেঘ নেই ।
এমনই কোন সন্ধ্যায় কি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে, সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া, যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে, যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া” মনে হয় এমনই নীরব কোন অপূর্ব সন্ধ্যা, কবি উপভোগ করেছিলেন, তারই প্রতিফলন সেই অমর কবিতা লেখা হয়েছিল । তবে আমার কোন ক্লান্তি ছিল না ।
আমিও বসেছিলাম দীর্ঘ সময় ম্যাপল গাছের নিচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে । উপভোগ করছিলাম, রঙ্গিন আলো আর শান্ত প্রকৃতি।
অসংখ্য শুকনো পাতার ছড়াছড়ি চারপাশে, পা ফেললেই শুকনো পাতার নুপুর বেজে ওঠে। পরিষ্কার ঝকঝকে তকতকে করতে ইচ্ছে করছে না । প্রকৃতি থাক নিজের মতন। বাতাসে উড়ে উড়ে মিশে যাবে ঘাসের বনে শুকনো পাতা ছড়িয়ে দিবে সাড় মাটিতে নিজস্ব নিয়ম ।
জেট লগ ঘিরে আছে এখনো শরীরে । সন্ধ্যা হলেই তাই ঘুম নামে চোখে, ক্লান্তিতে ভাঙ্গে শরীর। সন্ধ্যা, মানে যদিও রাত এগারোটা তবু আমার তো রাত জাগা স্বভাব দুটো, তিনটে না বাজলে ঘুমিয়ে পড়া ঠিক হয় কি? কিছু লেখা লিখতেই হবে কিন্তু চোখ জড়িয়ে ঘুম আসছে। কিছুতেই লিখা হয়ে উঠছে না, ল্যাপটপ, ল্যাপের উপর থেকে না পড়ে যায়। এই ভয়ে ভাবলাম যাই যাই শুয়ে পড়ি ।
ঘরে আলো নিভিয়ে অন্ধকার করে দিতেই মনে হল কি সুন্দর সন্ধ্যা ছিল । আজকে কি সৌরজগতে ঝড় উঠবে? বিকেলের এমন মোহনীয় আলোর দিনগুলোতে সাধারণত অরোরা দেখা যায়। আকাশটাও খুব পরিষ্কার ছিল । ঘর অন্ধকার করে বাইরে তাকিয়ে দেখি লাল, সবুজ আলো খেলা করছে আকাশ জুড়ে । কি দারুন! তড়িঘড়ি বাইরে চলে আসলাম। হালকা বাতাসে, টুপটাপ শব্দে ঝরে পড়ছে শুকনো পাতা । অন্ধকারে ঘরের কাছাকাছি কোন প্রাণীও চলে আসতে পারে, এসব কিছুর ভয় ভীতি, বিরত করতে পারল না আমাকে । আকাশের আলোর দিকে তাকিয়ে,উপভোগ করলাম ঘন্টাখানেক সময় ধরে মেরুজ্যোতির আলোকছটা পালিয়ে গেল চোখের ঘুম, শরীরের ক্লান্তি ।
গত বছর মে মাসে প্রথম অরোরার নাচ দেখলাম আকাশে, নিজের বাড়িতে বসে। এরপর আবার দু-তিনবার দেখা হল তার সাথে গত বছর । এবারও অনেক কয়দিন, খেলেছে আমার বাড়ির আকাশ জুড়ে যখন আমি বাড়ি ছিলাম না । কাল রাতে মিস হতে হতে ঠিক চলে আসলো আমার চোখের সামনে। বাড়িতে শুয়ে শুয়ে তাকে দেখার মজাই আলাদা। অথচ এক সময় কত জায়গায় যেতে চেয়েছি, অরোরার সাথে দেখা করার জন্য এখন সে চলে আসে আমার কাছে আপন খেয়ালে।

