ফেডারেল ঘাটতি ৬.৫ বিলিয়ন ডলার, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে চাপ বাড়ছে

ফেডারেল ঘাটতি ৬.৫ বিলিয়ন ডলার, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে চাপ বাড়ছে - the Bengali Times
কানাডার ফেডারেল সরকার ২০২৫২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এপ্রিল ও মে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি রেকর্ড করেছে

কানাডার ফেডারেল সরকার ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (এপ্রিল ও মে) ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি রেকর্ড করেছে। এক বছর আগের একই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩.৮ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ চলতি বছরের ঘাটতি প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ‘ফিসকাল মনিটর’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মিলিয়ে মোট ২৬০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এসেছে, যা গত বছরের প্রায় সমান। ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট আয়কর ছিল রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। তবে জিএসটি ও অন্যান্য পরোক্ষ কর থেকে আয় কিছুটা কমেছে, যা অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয়ের গতি শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

- Advertisement -

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই দুই মাসে প্রোগ্রাম ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে যা ৪ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বরাদ্দকেই ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সরকারের ঋণ পরিষেবার খরচ বা পাবলিক ডেট চার্জ ৩.৮ শতাংশ বেড়ে অতিরিক্ত ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় যোগ করেছে। উচ্চ সুদের হার এবং নতুন বাজারজাতযোগ্য বন্ড ইস্যু করার ফলে এই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নীতি সুদের হার যতদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকবে, সরকারের ঋণ পরিষেবা ব্যয় ততদিন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

উজ্জ্বল দিক হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে নেট অ্যাকচুয়ারিয়াল ক্ষতি গত বছরের তুলনায় ৪৬.৮ শতাংশ কমেছে। দীর্ঘমেয়াদি সুদের হারে পরিবর্তন এবং পেনশন দায় পুনর্মূল্যায়নের ফলে এই উন্নতি হয়েছে। তবে এটি প্রকৃত নগদ প্রবাহকে প্রভাবিত করে না, ফলে তাত্ক্ষণিক ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রথম দুই মাসের এ ধরনের বড় ঘাটতি পুরো বছরের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করতে পারে। রাজস্ব প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে বা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না এলে বার্ষিক ঘাটতি সরকারি পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে নতুন ঋণ ইস্যু বাড়বে এবং ২০২৬ সালের বাজেটে অতিরিক্ত কর আরোপ বা ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

ফেডারেল সরকার ইতিমধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলারের কস্ট–সেভিংস পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় দক্ষতা বাড়িয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সময়সীমা পুনর্বিন্যাস ও অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনাও চলছে। তবু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের আগে সুদের হার কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ, ফলে ঋণ পরিষেবার চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

সার্বিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কানাডার ফেডারেল সরকারের জন্য আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। উচ্চ ব্যয়, স্থিতিশীল কিন্তু ধীরগতির রাজস্ব প্রবাহ এবং ঋণের ক্রমবর্ধমান খরচ সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্তের পথ তৈরি করছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles