
ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকা কানাডার নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও কনস্যুলার পদক্ষেপ নিয়েছে অটোয়া। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দি হেগে ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের জানান, ইতোমধ্যে জর্ডান থেকে প্রথম চার্টার্ড ফ্লাইটে ১০০’র বেশি কানাডিয়ানকে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে আরও কয়েকটি ফ্লাইটের ব্যবস্থা চলছে। সরকার অনুমান করছে, পুরো অঞ্চলে ৫০০’র বেশি কানাডিয়ান এখনো ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
আনান্দ বলেন, “রেজিস্ট্রেশন অব কানাডিয়ানস অ্যাব্রড” সিস্টেমে নাম নথিভুক্ত থাকায় অধিকাংশ কানাডিয়ানকে দ্রুত শনাক্ত করা গেছে। সীমান্তে আটকে পড়া যাত্রীরাও কনস্যুলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের পর সহায়তা পেয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডা সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত কনস্যুলার দল মোতায়েন করেছে, যারা নিরাপদ যাত্রা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জরুরি নথি প্রদানে সহায়তা দিচ্ছেন।
সরকার সুনির্দিষ্ট সহায়তার ধরন প্রকাশ না করলেও কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নিরাপদ রুটের সমন্বয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, অস্থায়ী আশ্রয়, জরুরি ভ্রমণ নথি প্রদান এবং বাণিজ্যিক বা চার্টার্ড ফ্লাইটের বুকিং–সবই এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত–প্রবণ এলাকায় থাকা নাগরিকদের জন্য প্রতিদিন নতুন নিরাপত্তা পরামর্শ জারি করা হচ্ছে।
অনীতা আনান্দের সাম্প্রতিক কথোপকথন ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা তিনটি মূল বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল ইরানে অবস্থানরত কানাডিয়ানদের নিরাপত্তা, ইসরায়েল–ইরান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং ২০২০ সালে ভূপাতিত ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পিএস ৭৫২-এর ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার। “কানাডা এই তিনটি ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় ন্যায়সঙ্গত সমাধান চায়,” বলে জানান আনান্দ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্ধার কর্মসূচি কানাডার কনস্যুলার সক্ষমতার বড় পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় কানাডার সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ করিডোর তৈরি করা হচ্ছে; এমনকি যেসব দেশে কানাডার কূটনৈতিক উপস্থিতি সীমিত, সেখানে মিত্র দেশের দূতাবাসগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত কানাডিয়ানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা “রেজিস্ট্রেশন অব কানাডিয়ানস অ্যাব্রড” সিস্টেমে তাদের তথ্য হালনাগাদ করেন, যাতে জরুরি সহায়তা সহজ হয়। ইতোমধ্যে ১,২০০’র বেশি নাগরিক তথ্য হালনাগাদ করেছেন এবং নতুন নিবন্ধনের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই অভিযান সফল হলে আন্তর্জাতিক সংকটে নাগরিক সুরক্ষায় এটি একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দ্রুত সমন্বয়, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং মাঠ পর্যায়ের কনস্যুলার সহায়তা সব মিলিয়ে কানাডার এই উদ্যোগ একদিকে যেমন মানবিক দায়িত্ব পালনের উদাহরণ, তেমনি বৈশ্বিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণেরও ইঙ্গিত বহন করছে।

