
কানাডায় চলতি বছরের মে মাসে বার্ষিক ভোক্তা মূল্যসূচক ১.৭ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা এপ্রিলের সঙ্গেই অভিন্ন। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণার মধ্যেই এই হার থাকলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ থেকে ৩ শতাংশের লক্ষ্যসীমার মাঝামাঝি অবস্থান বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিলেও তাৎক্ষণিক সুদের হার কমানোর সুযোগ তৈরি করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে মূলত আবাসন খাতে ধীরগতির কারণে সামগ্রিক মূল্যচাপ কিছুটা কমেছে। ভাড়ার বার্ষিক বৃদ্ধি এপ্রিলের ৩.৪ শতাংশ থেকে নেমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে শ্লথ মাসিক হার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে আসা এবং নতুন আবাসন সরবরাহ বাড়ায় ভাড়ার ওপর চাপ কমেছে। অন্টারিও প্রদেশ, বিশেষ করে টরন্টো অঞ্চলে নতুন ভাড়াবাড়ি নির্মাণ বাজারকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভারসাম্য দিয়েছে।
গৃহস্থালি খাতে খাদ্যমূল্যও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। মে মাসে গ্রোসারি পণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা এপ্রিলের ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় কম। সবজি ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের দাম কমলেও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও আমদানিনির্ভর পণ্যে দাম এখনও তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক শুল্ক নীতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের খরচ বৃদ্ধিই এই খাতে চাপ ধরে রেখেছে।
পরিবহন খাতেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। গ্যাসোলিনের দাম এপ্রিলের তুলনায় সামান্য কমেছে, যা জ্বালানি ব্যয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে শিল্পখাতে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম এখনও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এনার্জি খাতের এই সীমিত স্বস্তি সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে।
দি কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু ডিকাপুয়া মন্তব্য করেছেন, “মে মাসের এই ফলাফল অর্থনীতিকে এক ধরণের শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তবে সুদের হার কমানোর আগে ব্যাংক অব কানাডাকে আরও কয়েক মাস স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতির ধারাবাহিকতা দেখতে হবে।”
জুনের গোড়ার দিকে ব্যাংক অব কানাডা তাদের নীতিনির্ধারণী সুদের হার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ২.৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক বিরোধের সম্ভাব্য প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, আমদানি খাতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে খাদ্য ও ভোক্তা পণ্যের দাম আবারও বাড়তে পারে।
বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন জুলাই ও সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি বৈঠকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোতে যদি মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে নেমে আসে এবং প্রবৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রিত থাকে, তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে সুদের হার কমার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তবে শক্তিশালী শ্রমবাজার ও ৩ শতাংশের বেশি মজুরি বৃদ্ধির হার বিবেচনায় ব্যাংক অব কানাডা শিগগিরই নীতিগত শিথিলতায় যাবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মে মাসের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, কানাডার অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে অগ্রসর হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে নতুন কোনো ধাক্কা বা আমদানি খাতে শুল্ক বাড়লে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। আবাসন সরবরাহ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকলে এবং আন্তর্জাতিক বাজার শান্ত থাকলে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও মুদ্রাস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যসীমার মধ্যেই থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

