
অন্টারিও-মিশিগান সীমান্তে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সূত্র ধরে ৩৫ বছর বয়সী এক টরন্টোবাসীকে গ্রেফতার করেছে সীমান্ত কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় ফেরার পথে উইন্ডসর-ডিট্রয়েট টানেলে কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা সন্দেহজনক শব্দ পেয়ে তার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালান। সেখানেই শুরু হয় ঘটনার ভয়ঙ্কর অধ্যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গাড়ির ভেতর থেকে কুকুরটিকে মারধরের স্পষ্ট শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কর্মকর্তারা গাড়ি থামানোর পর তল্লাশিতে একটি কুকুরকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাত্রাপথেই ওই ব্যক্তি কুকুরটিকে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন করছিলেন। ঘটনাস্থলেই কুকুরটিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
পশু চিকিৎসকের প্রাথমিক রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, কুকুরটির শরীরে গভীর ক্ষত, একাধিক হাড় ভাঙা এবং বেশ কয়েক স্থানে রক্তক্ষরণ রয়েছে। ভেটেরিনারি টিম জানিয়েছে, কুকুরটিকে অন্তত এক সপ্তাহ নিবিড় পরিচর্যায় রাখতে হবে। বর্তমানে প্রাণীটি একটি স্থানীয় পশু কল্যাণ সংস্থার তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
প্রাদেশিক প্রাণী সুরক্ষা আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং ভবিষ্যতে পোষা প্রাণী রাখার অধিকার স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রাণীর প্রতি ইচ্ছাকৃত নির্যাতনের প্রমাণ স্পষ্ট।
প্রাণী অধিকার কর্মীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, কানাডায় প্রাণী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমবর্ধমান। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান বলছে, অন্টারিওতে প্রাণী নির্যাতনের অভিযোগ ছিল প্রায় ৩,২০০টি, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কুকুর নির্যাতনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণীর প্রতি সহিংসতা প্রায়ই মানসিক অসুস্থতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং সামাজিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু শাস্তি নয়, অভিযুক্তের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও জরুরি।
প্রাদেশিক প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধ রোধে সীমান্ত চেকপোস্টে সিসিটিভি নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি পশু কল্যাণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উইন্ডসর-ডিট্রয়েট টানেলের এই ঘটনা টরন্টো ও পুরো অন্টারিও প্রদেশকে নাড়া দিয়েছে। প্রাণী কল্যাণ এবং আইনশৃঙ্খলা দুটো ক্ষেত্রেই এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনগত কড়াকড়ি ছাড়া এই নৃশংসতা রোধ করা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

