
জাপানের টোকিওতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৯৮ বছর বয়সী ড. মাহাথির মোহাম্মদের ‘ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে দেখা হয়েছে। সাক্ষাতে ড. ইউনূস বাংলাদেশের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তার বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সুশাসন, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে ড. মাহাথিরের পরামর্শ কামনা করেন।
আমাদের দেশে অনেকেই ড. ইউনূসকে ড. মাহাথিরের সাথে তুলনা করেন। কিন্তু আসলে ড. ইউনুস কখনোই ড. মাহাথির হতে পারবেন না। ড. মাহাথির দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া শাসন করেছেন একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে। মতের মিল না হওয়ায় ড. মাহাথির নিজ দল ত্যাগ করে ৯৮ বছর বয়সে নুতন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। আমাদের দেশে কোন প্রধান দলের নেতা কখনো নিজ হাতে গড়া দল ত্যাগ করবে? দলের অন্য নেতারা চলে যেতে পারে, কর্মীরা চলে যেতে পারে কিন্তু মুল নেতা নিজ দল ত্যাগ করেন না। কারণ দলের নীতি আদর্শের যত বুলিই প্রিন্টেড বই পুস্তকে লেখা থাকুক, মুল নেতাই নীতি, মুল নেতাই আদর্শ তা সে যতই খারাপ লোক হোক না কেন! মালয়েশিয়ার মুল নেতা নিজ দলের নীতিকে আর দেশের জন্যে ভাল মনে করেন নি, দলের অন্য নেতা কর্মীদের সাথে মতবিরোধ হয়েছে, ফলে তিনি নিজেই দল ত্যাগ করে নুতন দল গঠন করেছেন।
অন্যদিকে ড. ইউনুস ২০০৮ সালে নাগরিক শক্তি নামে দল গঠনের চিন্তা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়েছিলেন। কাজেই তিনি আর ড. মাহাথির এক নন। তবুও মানুষ তাকে নিয়ে এবার অনেক আশা করেছিল। সেই আশা বাস্তবায়ন হবে না এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। কারণ সকল শক্তি নিয়ে দেশের প্রধান কয়েকটি শক্তি সংস্কার কাজে বাঁধার সৃষ্টি করছে। বরং ড. ইউনুস যেটা করে অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্হাপন করতে পারেন তা হলো, রাজনৈতিক দলের নামে এইসব অশুভ শক্তির কাছে মাথা নত না করে পদত্যাগ করে চলে যেতে পারেন যদি নির্বাচনের আগে তিনি কোন সংস্কার না করতে পারেন। সংস্কারবিহীন নির্বাচন মানেই জেনেশুনে গোটা জাতিকে আবারও জাহান্নামের অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা।
স্কারবোরো, কানাডা

