
কুইবেকের লাভালে মেট্রো ইনকর্পোরেশনের ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কর্মীদের চলমান ধর্মঘট পঞ্চম মাসে গড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই শ্রমবিরোধের প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কানাডার অন্যতম বড় গ্রোসারি ও ড্রাগস্টোর রিটেইলার মেট্রোর আর্থিক ফলাফলেও।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক লা ফ্লেশে বুধবার বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বীকার করেছেন, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক মেট্রোর জন্য বেশ কঠিন ছিল। আগামী মাসেই সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে তাঁর।
মেট্রোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ১৩ লাখ ডলারে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এই অঙ্ক ছিল ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে লাভালের ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কর্মীদের ধর্মঘট। গত ৩০ মার্চ থেকে সেখানে কর্মবিরতিতে রয়েছেন প্রায় ৫৫০ জন ইউনিয়নভুক্ত কর্মী। উন্নত কর্মপরিবেশ এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
কুইবেক প্রদেশে মেট্রোর এটিই একমাত্র ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার। এখান থেকেই প্রদেশের ৩৫০টিরও বেশি মেট্রো স্টোরে পণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সুপার সি এবং মেট্রো প্লাসের মতো জনপ্রিয় স্টোরও। ফলে ধর্মঘটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং কোম্পানির কার্যক্রমে তার প্রভাব পড়ছে।
লা ফ্লেশে জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক দর-কষাকষি আলোচনা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব ইউনিয়নের ওপরই রয়েছে।
তবে কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী মেট্রো-রিচেলু ইউনাইটেড গ্রোসার্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (সিএসএন) এই বক্তব্য মানতে নারাজ। ইউনিয়নের দাবি, শ্রমবিরোধ মেটানোর চাবিকাঠি মূলত মেট্রোর হাতেই রয়েছে।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট এবং যৌক্তিক। কর্মীরা এমন একটি বেতন সমন্বয় চান, যা গত কয়েক বছরে হারিয়ে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতার একটি অংশ ফিরিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে কর্মপরিবেশের উন্নতিও তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।
তবে ধর্মঘট ও মুনাফায় বড় পতনের মধ্যেও মেট্রোর বিক্রিতে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট পণ্য বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬৮৭ কোটি ডলার।
অর্থাৎ বিক্রি বাড়লেও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আর দীর্ঘায়িত ধর্মঘটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া চাপ আগামী দিনে কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

