
বাড়ি ফিরতে দেরি হলে স্ত্রী জয়া বচ্চনের বকুনি খেতে হতে পারেএ কথা বেশ ভালোভাবেই জানেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন
বাড়ি ফিরতে দেরি হলে স্ত্রী জয়া বচ্চনের বকুনি খেতে হতে পারে—এ কথা বেশ ভালোভাবেই জানেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তাই শুটিংয়ের কারণে দেরি হবে বুঝলেই আগে থেকে পরিবারের সবাইকে জানিয়ে রাখেন তিনি। তার মতে, এটিই তাকে অনেকটা ‘বাঁচিয়ে দেয়’।
সম্প্রতি ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর একটি পর্বে এক প্রতিযোগীর প্রশ্নের জবাবে নিজের পারিবারিক জীবনের এমন মজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অমিতাভ।
ওই প্রতিযোগী জানতে চান, বাড়ি ফিরতে দেরি হলে জয়া বচ্চন তাকে বকাঝকা করেন কি না। জবাবে অমিতাভ জানান, শুটিংয়ের কারণে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আগে থেকেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেন তিনি। এজন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও রয়েছে।
অমিতাভ বলেন, ‘আমি জানি কী হতে পারে। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে তৈরি করা গ্রুপে একটি বার্তা পাঠাই। হাত জোড় করে বলি—কোথাও আমার শুটিং রয়েছে এবং ফিরতে দেরি হবে। তাই যেন কেউ আমার জন্য রাতের খাবারের অপেক্ষা না করেন। আগে থেকেই সবাইকে জানিয়ে রাখি। এটাই আমাকে বাঁচিয়ে দেয়।’
এরপর মজা করে তিনি বলেন, জয়া বচ্চনকে আগে থেকে না জানালে বকুনি খেতে হয়। তখন জয়া প্রশ্ন করেন, কোথায় ছিলেন, কেন কাউকে জানাননি এবং এত দেরি করে বাড়ি ফিরছেন কেন।
অমিতাভ জানান, তিনি খুব দেরি করলে জয়া নিজের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
শুধু স্ত্রীর বকুনি এড়ানোর কৌশলই নয়, বাড়ির কাজ নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন অমিতাভ। বাড়িতে পরিচারক-পরিচারিকা না থাকলে ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ নিজেই করেন বলে জানান তিনি।
অমিতাভ বলেন, ‘বাড়িতে যত কর্মীই থাকুক না কেন, যখন কেউ থাকে না, তখন আমি নিজেই সব কাজ করি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে সবকিছুই সামলাই।’
তবে রান্না করতে জানেন না বলে স্বীকার করেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তখন কখনো বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে নেন, আবার কখনো স্ত্রী জয়ার কাছে গিয়ে আবদার করেন—‘দেবী জি, একটু কিছু বানিয়ে দাও।’
অমিতাভের এমন আবদারে জয়া খুশি হন বলেও জানান তিনি। প্রতিদিন তার জন্য নানা ধরনের খাবার তৈরি করেন জয়া এবং খাবার কেমন হয়েছে, সেটিও জানতে চান। ফলে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও দুজনের সম্পর্কের এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো এখনো বেশ প্রাণবন্ত—সেটিই যেন ফুটে উঠেছে অমিতাভের কথায়।

