অস্ট্রেলিয়ার বনে নিখোঁজের ৩ বছর পর মিলল সেলিনের দেহাবশেষ, জানা গেল মৃত্যুর কারণ

অস্ট্রেলিয়ার বনে নিখোঁজের ৩ বছর পর মিলল সেলিনের দেহাবশেষ, জানা গেল মৃত্যুর কারণ - the Bengali Times
বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমার

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমারের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দেশটির করোনার আদালত জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর হাইপোথার্মিয়া, আঘাত অথবা পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

৩১ বছর বয়সী সেলিন ২০২৩ সালের ১৭ জুন তাসমানিয়ার ক্র্যাডল মাউন্টেন এলাকায় একা হাইকিংয়ে বের হন। এরপর আর ফিরে না আসায় নয় দিন পর তাঁর নিখোঁজের খবর পুলিশকে জানানো হয়। একটি ট্রেইলহেডে তাঁর গাড়ি পাওয়া গেলেও ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রথম দফার প্রায় দুই সপ্তাহের উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়েক দফায় অনুসন্ধান চালানো হলেও দীর্ঘ সময় সেলিনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে তল্লাশি চালানোর সময় একটি ট্রেইল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সেলিনের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন এবং গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে পথ খুঁজছিলেন।

এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আর্থার নামের এক হাইকার নদীর তীরে কিছু হাড় দেখতে পান। পরে সেখানে আরও হাড়, দাঁত, পোশাক ও সেলিনের গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ নিশ্চিত করে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ সেলিন ক্রেমারের।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাসমানিয়ার করোনার ম্যাডেলিন উইলসন জানান, ১৭ থেকে ২১ জুনের মধ্যে সেলিনের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, ফিলসফার ফলস ঘুরে সরাসরি গাড়ি রাখার জায়গায় না ফিরে সেলিন ম্যাগনেট ড্যামের দিকে যাওয়া একটি অপরিষ্কার পথে ঢুকে পড়েছিলেন। পরে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন। তখন শীতের বিকেল দ্রুত অন্ধকার হয়ে আসছিল এবং তাপমাত্রা ছিল প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি। তাঁর পরনে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রও ছিল না, ছিল না জলরোধী পোশাক।

ধারণা করা হচ্ছে, বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটের দিকে তিনি পথ হারান। এর কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনটি হারিয়ে ফেলায় তাঁর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ফোনটির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত হয় বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে।

সেলিনের দেহাবশেষে একাধিক হাড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়ে গিয়ে এসব আঘাত লাগতে পারে। আবার মৃত্যুর পর নদীর স্রোতে পাথর বা অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ধাক্কা লেগেও হাড় ভাঙতে পারে।

হাইপোথার্মিয়া, আঘাত কিংবা পানিতে ডুবে যাওয়াকে সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে করোনার সেলিনের মৃত্যুকে দুর্ঘটনাজনিত বলে রায় দিয়েছেন।

প্রায় তিন বছর পর সেলিনের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাঁর বোন অ্যামেলি। তিনি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেলিনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসা পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles