
“এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব?”—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এমন আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাকে হাজির করা হয়। এদিন তার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।
শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে দীপু মনি বলেন, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে কারাবন্দি। গত এপ্রিল মাসে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি আর জামিন চান না; বরং আবেদনটি প্রত্যাহার করতে চান।
দীপু মনি বলেন, তার স্বামী তৌফীক নাওয়াজ দীর্ঘ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন এবং বাকশক্তি হারিয়েছিলেন। কথা বললে চোখের পলক ফেলে সাড়া দিতেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তিনি স্বামীর যত্ন নিয়েছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, কারাবন্দি হওয়ার পর স্বামীকে দুই বছর আশ্রিত অবস্থায় থাকতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার মাস আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন স্বামীর কাছে থাকার জন্য জামিন চেয়েছিলেন তিনি।
দীপু মনি বলেন, “৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।”
উল্লেখ্য, তৌফীক নাওয়াজ গত ১৮ আগস্ট রাতে মারা যান।
দীপু মনির বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তার বক্তব্যে তারা ব্যথিত। তার আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতকে আরও অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
পরে ট্রাইব্যুনাল দীপু মনির জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

