
প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে এবং পরে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগে ফরিদপুরে এক তরুণী অনশন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে প্রায় আট লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে।
রোববার বিকাল থেকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকায় বরুণ রবি দাসের বাড়িতে অনশনে বসেন ওই তরুণী। তার দাবি, তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার না দেওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে যাবেন না।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মুসলিম পরিবারের ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বরুণ। পরে তাকে ধর্মান্তরিত করে ‘মৌ রবি দাস’ নাম দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা এবং মন্দিরের রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি তার।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর প্রায় এক বছর বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করেন। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় আট লাখ টাকার স্বর্ণালংকারও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে বরুণ বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে রাজি না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন মৌ রবি দাস। তিনি বরুণের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অনশনরত তরুণী অভিযোগ করেন, স্ত্রীর দাবি নিয়ে বরুণের বাড়িতে গেলে তার মা ও ভাই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনি বলেন, অধিকার ও ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।
তবে বরুণের মা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তার ভাষ্য, ছেলে ওই তরুণীকে নিয়ে সংসার করবে কি না, সেটি সম্পূর্ণ বরুণের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরুণ রবি দাস। তার দাবি, তরুণী ভুয়া হলফনামা দেখিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। বরং তার কাছে আট লাখ টাকা দাবি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

