দাম কমলেও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান

দাম কমলেও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান - the Bengali Times
কানাডার আবাসন বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রেন্টালসডটসিএ দেশের বৃহৎ আবাসন বাজারগুলোতে বসবাসকারী ১ হাজার ১৯৪ জন ভাড়াটিয়ার ওপর একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে

জাতীয় পর্যায়ে টানা প্রায় দুই বছর ধরে বাড়িভাড়া কমার প্রবণতা দেখা গেলেও সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বরং নতুন এক সমীক্ষা বলছে, বাড়িভাড়া কিছুটা কমলেও অধিকাংশ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা এখনো সেই একই ক্রয়ক্ষমতার সংকট। অর্থাৎ, আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় ভাড়া এখনো এতটাই বেশি যে অনেকের পক্ষেই মানসম্মত বাসস্থান ভাড়া নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কানাডার আবাসন বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রেন্টালসডটসিএ দেশের বৃহৎ আবাসন বাজারগুলোতে বসবাসকারী ১ হাজার ১৯৪ জন ভাড়াটিয়ার ওপর একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। এতে অংশগ্রহণকারীদের বর্তমান ভাড়া পরিস্থিতি, নতুন বাসা খোঁজার অভিজ্ঞতা, আবাসন নির্বাচনের অগ্রাধিকার, পারিবারিক অবস্থা, আয়, মাসিক বাজেট এবং সামগ্রিক ভাড়াভিত্তিক আবাসন বাজার সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

- Advertisement -

সমীক্ষার ফলাফলে উঠে এসেছে, উচ্চ ভাড়াই এখনো ভাড়াটিয়াদের সবচেয়ে বড় বাধা। প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, নতুন বাসা খুঁজতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভাড়া কিছুটা কমেছে, তবে সেটি অধিকাংশ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি।

এছাড়া, ১১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বাজারে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ভাড়ার তালিকার অভাব তাদের জন্য বড় সমস্যা। অন্যদিকে ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, ভাড়ার জন্য উপযুক্ত বাসস্থানের স্বল্প সরবরাহ তাদের আবাসন খোঁজাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, ক্রয়ক্ষমতার সংকট এখন শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারও একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। উচ্চ ভাড়া এখন এমন এক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অনেকেই নিজের পছন্দের কারণে নয়, বরং বাড়ি কেনার সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়ে ভাড়ার বাজারে থেকে যাচ্ছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডার আবাসন বাজারে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। একদিকে ভাড়াটিয়াদের বাজেট, অন্যদিকে বাজারে প্রচলিত ভাড়ার হার দুটির মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা মাসিক সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত ভাড়া দিতে সক্ষম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কানাডাজুড়ে বর্তমানে গড় দাবিকৃত মাসিক ভাড়া ২ হাজার ডলারেরও বেশি, যা অধিকাংশ ভাড়াটিয়ার সামর্থ্যের বাইরে।

সাম্প্রতিক বাজার পরিসংখ্যানও একই চিত্র তুলে ধরছে। গত মে মাসে কানাডায় জাতীয়ভাবে দাবিকৃত গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯ কানাডীয় ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কম। এটি টানা ২০তম মাস, যখন জাতীয় গড় ভাড়ায় বার্ষিক ভিত্তিতে হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডায় দাবিকৃত গড় ভাড়া সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০২ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে ধীরে ধীরে ভাড়া কমে এখন পর্যন্ত মোট ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে এই পতন সত্ত্বেও বাজার এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে অধিকাংশ ভাড়াটিয়া স্বস্তির সঙ্গে বাসা ভাড়া নিতে পারেন।

শুধুমাত্র ভাড়া কমে যাওয়াই সমস্যার সমাধান নয়। যদি মানুষের আয় একই হারে না বাড়ে, তবে ক্রয়ক্ষমতার সংকট অব্যাহত থাকবে। ফলে ভাড়ার বাজারে চাপ কমাতে হলে নতুন আবাসন নির্মাণ, সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বৃদ্ধির মতো দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ভাড়া কমার ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিলেও কানাডার অধিকাংশ ভাড়াটিয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো একটি নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে নিরাপদ ও উপযুক্ত আবাসন নিশ্চিত করা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles