
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান তাকে লক্ষ্যবস্তু মনে করে এবং তার ওপর হামলা হলে বিমানে থাকা অন্যরাও নিরাপদ থাকবেন না।
সাংবাদিকরা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বলেন, তিনি সব সময়ই বড় ধরনের হুমকির মধ্যে থাকেন এবং ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় তার নাম সবার ওপরে রয়েছে। এরপর তিনি রসিকতার সুরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি মারা গেলে তোমরাও মরবে। তাই হয়তো তোমাদের মধ্যে কয়েকজনের পেশা বদলে নেওয়া উচিত।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার নতুন প্রেসিডেন্টীয় বিমান ব্যবহার না করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই তুরস্ক ত্যাগ করেন ট্রাম্প।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের সামনে কোনো ‘রেড লাইন’ নেই। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্কবার্তাও দেন।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

